ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে আটকে রেখে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার ফুপা আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা অভিযুক্ত ফুপা ও প্রেমিক নাহিদকে আসামি করে রবিবার রাতে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার দুপুরে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত ফুপা আলমগীর হোসেন (৪৫) ধামরাইয়ের সূয়াপুর ইউনিয়নের ঘোড়াকান্দা গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে ও পেশায় প্রাইভেটকারের চালক। প্রেমিক নাহিদ হোসেন (২২) একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
মামলার বাদি ও ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন, ধামরাই উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের ঘোড়াকান্দা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে কলেজ ছাত্র নাহিদ হোসেন স্কুলে যাতায়াতের সময় আমার মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে নাহিদ। সম্প্রতি মেয়েটি নাহিদকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে সে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল ছাত্রীর আপন ফুপা আলমগীর হোসেন নাহিদের সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে গত বুধবার নিজ বাসায় নিয়ে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে বললে হত্যার হুমকি দিয়ে ওই রাতেই বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে আবারও তার ফুপা মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে সে ধর্ষণের বিষয়টি আমাকে খুলে বলে।
এদিকে ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় সুয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাব ও ইউপি ওয়ার্ড সদস্য প্রভাত মালুর কাছে ধর্ষণের বিষয়টি জানিয়ে বিচার দাবি করেন ওই ছাত্রীর মা। তবে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষযোগ্য না হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান থানা পুলিশকে খবর দেন।
এসময় পুলিশ আসার আগেই ধর্ষক আলমগীরকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ তোলেন ইউপি সদস্য প্রভাত মালুর বিরুদ্ধে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদি হয়ে ফুপা আলমগীর ও প্রেমিক নাহিদকে আসামি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ইউপি সদস্য প্রভাত মালুর বিরুদ্ধে ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
