জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়নের প্রকল্পের টাকা ‘ভাগাভাগি’ ও গাছ কেটে অপরিকল্পিত আবাসিক হল নির্মাণের বিরুদ্ধে মশাল মিছিল করেছে কয়েকশ শিক্ষার্থী।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পরিবহন চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয় মিছিলটি। এতে বাম, বিএনপি ও আওয়ামীপন্থি ১০ জনের বেশি শিক্ষককেও অংশ নিতে দেখা গেছে।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ছি ছি প্রশাসন টাকার জন্য মরণপণ’, ‘যে প্রশাসন গাছ কাটে সে প্রশাসন চাই না’, ‘যে প্রশাসন দুর্নীতি করে সে প্রশাসন চাই না’ ইত্যাদি সেøাগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা ছাত্রশৃঙ্খলা বিধি বাতিল, মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাস, ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলকে ঘিরে তিন হলের স্থান পরিবর্তন, উপাচার্যের সাংবাদিক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানান।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য রাকিবুল রনি বলেন, ‘আমাদের তিনটি দাবি বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি। কিন্তু তারা কোনোভাবে কর্ণপাত করছে না। শিডিউল ছিনতাই হলো, কর্ণপাত করল না। আবার দেখলাম দেশের সাধারণ জনগণের টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলো। ছাত্রলীগ আর দলীয় শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলন দমানোর প্ল্যান করা হচ্ছে। উপাচার্য ইউজিসিকে বলেছেন, আমরা নাকি উন্নয়নবিরোধী। কিন্তু আমরা কখনই উন্নয়নবিরোধী নই। আমরা চাই পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন হোক। সব ধরনের অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা কখনো অন্যায়, দুর্নীতি, লুটপাট অপরিকল্পনাকে সহ্য করেনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কখনো স্বেচ্ছাচারিতা মেনে নেয়নি। প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, আমাদের দাবি মেনে নিন নতুবা আপনাদের জন্য ভবিষ্যতে ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘আমরা গাছ কাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না। আমরা আন্দোলন করছি অপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে। আমরা আন্দোলন করছি রাষ্ট্রের জনগণের টাকা লুটপাটের বিরুদ্ধে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কখনই জনগণের কষ্টের টাকা লুটপাট করতে দেবে না।’
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা মশাল হাতে নিয়েছি। এই মশাল যেমন সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি আলোকিত করে। আমরা চাই আমাদের এই মশাল মিছিল জাহাঙ্গীরনগরকে আলোকিত করবে। আপনি যে লুটপাট শুরু করেছেন, সেটা জাহাঙ্গীরনগরে চলতে দেওয়া হবে না। আমরা এই লুটপাটকে যেকোনো মূল্যে বন্ধ করব। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে কোনোভাবেই সরে আসব না।’
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে, ছাত্র ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক শাকিলউজ্জামান।
আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৩ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।
