ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার (ব্রেক্সিট) শেষ সময়সীমার কয়েক সপ্তাহ আগে সংসদ স্থগিতের পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। বুধবার পার্লামেন্ট স্থগিতের আবেদন করেন ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
রানীর অনুমোদন অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ কার্যকরের পথ সুগম করতে পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন বরিস জনসন।
যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রিত রাজতন্ত্রে সরকারের অনুরোধ পালনে বাধ্য রানি।
বরিসের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিরোধীরা। তারা একে ‘একনায়কতন্ত্র’সুলভ আচরণ বলে আখ্যায়িত করেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকা স্পিকারও বেজায় চটেছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘সাংবিধানিক অরাজকতা’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
‘ব্রিটেন এক্সিট’কে সংক্ষেপে বলা হয় ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ একে অন্যের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারে, নাগরিকেরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পারে এবং সেখানে বসবাস করতে পারে।
প্রায় ৪০ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের জুনে একটি গণভোট আয়োজন করে যুক্তরাজ্য। অধিকাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন।
এই ভোটের পর সেখানকার রাজনীতি রীতিমতো এলোমেলো হয়ে গেছে। ক্ষমতা হারাতে হয়েছে থেরেসা মেকে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিসও থেরেসার মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে অনড়।
