দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো নোয়াখালীতেও বিরাজ করছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মশার কামড় থেকে বাঁচতে কয়েল, মশারি, স্প্রে কিনতে যাচ্ছেন দোকানগুলোতে। এ সুযোগে দ্বি-তিনগুণ দামে এসব পণ্য বিক্রি করছেন অনেক ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন দেশ রূপান্তরের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন। ক্রেতা সেজে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন এ প্রতিবেদক।
ডেঙ্গুতে নোয়াখালী জেলায় আক্রান্ত হয়েছে ৫১১ জন। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ৭১ জন। জেলা সিভিল সার্জন মোমিনুর রহমান জানান, জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। তবে সেপ্টেম্বরে আবার বেড়ে যেতে পারে।
জেলার বেগমগঞ্জের জিরতলীর দিদারুল আলম বলেন, ‘যে মশারি রমজান আসে ২০০ টাকায় কিনি, এটার দাম এখন ৫০০ টাকা।’
নোয়াখালী সদরের দাদপুর ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এসিআই অ্যারোসল আগে বাজারে সহজলোভ্য থাকলেও এখন ব্যবসায়ীরা লুকিয়ে রেখে নাই বলে দ্বি-তিনগুণ দামে বিক্রি করছেন।’
নোয়াখালীর একাধিক বাজারে ঘুরে এ প্রতিবেদক দেখেন, ২০০ টাকার মশারি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, ৪০০ টাকার মশারি ১ হাজার টাকায় একদরে বিক্রি হচ্ছে। এসিআই ৪৭৫ এমএল স্প্রের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৯৯ টাকা লেখা থাকলেও মুদি দোকান ও ওষুধের দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। এসিআই অ্যারোসল ইনসেক্ট স্প্রে জ্যাম্বো প্যাক ৪৩১ টাকারটা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়। মশার একটি কয়েল অন্য সময়ে ৩ টাকা বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ১০ টাকায়। ৫ টাকার কয়েল প্রতিটি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জের জিরতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের জানান, ডেঙ্গুর আতঙ্কে মানুষ দিশেহারা। মশা মারা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু ইউনিয়ন পর্যায়ে এর কোনো ব্যবস্থা নেই। বাজারে মশারি, অ্যারোসল ও কয়েলের দাম চার-পাঁচগুণ বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
নোয়াখালী বণিক সমিতির সভাপতি ছায়েফউদ্দিন সোহান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যবসা করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কে কার কথা শোনে?’
জেলার বাংলাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হাসান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের যতই অনুরোধ করি, কেউ কারও কথা শোনে না। অধিক মুনাফার জন্য তারা যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে।’
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, ‘এ অভিযোগটা কেউ করেনি। তবুও বাজারের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
