ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাসীন বিজেপি দলে যোগ দিচ্ছেন। এই রাজ্য থেকে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ বিজেপির সদস্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি জে পি নাড্ডা।
সংবাদ প্রতিদিন জানায়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সদস্য হওয়ায় মধ্যে এগিয়ে আছে তরুণ প্রজন্ম, নারী এবং পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মানুষেরা। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে জে পি নাড্ডা দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহ অভিযানের এই চিত্র তুলে ধরেন।
বিজেপির এই নেতা বলেন, “দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিজেপিতে যোগদানের সব থেকে বেশি প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মোদি বারাণসী থেকে এই অভিযানের সূচনা করেছিলেন। সেইসময় পশ্চিমবঙ্গে দলের সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা করা হয়েছিল ১০ লাখ। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সদস্য সংখ্যা দ্রুত ৩০ লাখ পৌঁছে যায়। তারপর ৬০ লাখে এবং বর্তমানে ৮০ লাখ পার হয়ে গিয়েছে। এখন আমরা ১ কোটির দিকে এগোচ্ছি।”
বিশেষ অভিযান শেষ হয়ে গেলেও বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণের প্রক্রিয়া চালু থাকবে বলেও জানিয়েছেন নাড্ডা। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্ত অবস্থান তৈরি করতে দলের পক্ষ থেকে রাজ্যটির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বাংলা অঞ্চলটির মানুষের মধ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঢল নেমেছে বলেই মনে করছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
রাজ্য সরকারের ওপর থেকে মোহভঙ্গ হয়েছে বলেই মানুষ বিজেপির দিকে ঝুঁকছে বলেও দাবি নাড্ডার। তিনি বলেন, “সদস্য হতে নারীদের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। মানুষ যেভাবে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, সেভাবেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।”
এ দিন নাড্ডা আরও জানান, সারা দেশে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে ৫ কোটি ৮১ লাখেরও বেশি মানুষ দলের সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। অফলাইনের মাধ্যমে এই সংখ্যা ৬২ লাখেরও বেশি। এ ছাড়া মিসড কলের মাধ্যমে সদস্যপদ সংগ্রহ মিলিয়ে মোট ৭ কোটি নতুন সদস্য বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এর আগে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ছিল ১১ কোটি। নতুন সদস্যদের নাম, ঠিকানা, পিন নম্বর সব মিলিয়ে দেখার কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। এবার নতুন সদস্যদের কীভাবে দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজে লাগানো হবে সেই পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন নাড্ডা।
