মানসিক ভারসাম্যহীন এক নাবালিকাকে কবিরাজের কাছে পাঠিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের এক সরকারি চিকিৎসক। বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর হাসপাতালে চাকরি করেন তিনি।
রোগীর বাবা ওই চিকিৎসক জিষ্ণু ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিমাদ্রি আড়ির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিষ্ণু।
তার দাবি, ওই কিশোরী সরকারি চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করছিল। সেই নিয়ে কিছু কথা হয়েছিল। এর বেশি কিছু নয়।
মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আড়ি জানান, সরকারি প্রেসক্রিপশনের ওপরে এমন কথা যিনি লিখে থাকুন তিনি চরম অন্যায় করেছেন। বিষয়টি শোনার পর সিউড়ি হাসপাতালের সুপারকে জানিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রিপোর্ট দিলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিউড়ি এক নম্বর ব্লকের কুখুটিয়া গ্রামের এক দম্পতি মানসিক ভারসাম্যহীন বছর সতেরোর মেয়েকে সুস্থ করার চেষ্টা করছিলেন। তাই সিউড়ি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি স্থানীয় এক গুনিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। গত বুধবার মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন তার মা। কিন্তু সেখানে থাকা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হওয়ার জেরে তার কাছে আর মেয়েকে দেখাতে রাজি নন তিনি।
ওই নাবালিকার বাবা বলেন, ‘শুক্রবার মেয়েকে দেখানোর দিন থাকলেও স্ত্রী বা মেয়ে কেউ হাসপাতালে আসতে চাইছে না। আমি তো সরকারি চিকিৎসায় ভরসা রেখেছি। মা কী বলেছে জানি না। তবে ওই চিকিৎসক বাংলায় লিখে দিয়েছেন কবিরাজের কাছে যেতে। আমার স্ত্রী ও মেয়েকে অপমান করেছেন। এভাবে চিকিৎসা না করে প্রেসক্রিপশনে ওই কথা লেখা হলে আমরা কী ভাবব।’
