সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আজীবন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে এরশাদের চেহলাম উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জিএম কাদের।
তিনি আরও বলেন, ‘এরশাদ ছিলেন এদেশের মানুষের মনের রাজা। তিনি দেশবাসীর অন্তর জয় করে অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।’
গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদ (৮৯)। জাপার রংপুরের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ১৬ জুলাই রংপুরের বাসভবন পল্লীনিবাসের লিচুতলায় তাকে সমাহিত করা হয়। গত ২৩ আগস্ট এরশাদের চেহলাম অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত থাকলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর কারণে সেটি পেছানো হয়।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশ ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি পল্লীবন্ধু এরশাদ। রাজনীতির চার ভাগের একভাগ সময়ে দেশ পরিচালনা করে উন্নয়নের অসামান্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সবসময় দেশের মানুষের মনের ভাষা বুঝতেন। দেশের মানুষের মতামতের ওপর শ্রদ্ধা রেখেই তিনি দেশ পরিচালনা করেছেন।’ ক্ষমতায় থাকার পাশাপাশি বিরোধী দলে থেকেও এরশাদ গণমানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জিএম কাদের আরও বলেন, ‘সব বিরোধী দলের বিরোধিতা উপেক্ষা করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। সব বিরোধিতা অগ্রাহ্য করে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সৈন্য পাঠিয়েছিলেন তিনি। এখন দেশবাসী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সব কাজের সুফল ভোগ করছেন।’
এরশাদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘পল্লীবন্ধু জনগণের কল্যাণে অনেক স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। আমরা পল্লীবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব। পল্লীবন্ধু সবসময় দেশের হতদরিদ্র মানুষের পাশে ছিলেন, আমরাও তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকব।’
জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, এসএম ফয়সল চিশতী প্রমুখ।
