আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের পর চট্টগ্রামে বটতলী রেল স্টেশনে অবস্থান করা দুটি শাটল ট্রেনের হোসপাইপ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে ট্রেনের চালককে অপহরণ করার কিছু সময় পর তাকে ছেড়ে দে্ওয়া হয়। ফলে রবিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া রবিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনের সকল শিক্ষক ও স্টাফ বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে ও তালায় সুপারগ্লু লাগিয়ে দেওয়ায় সকাল থেকে সকল বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে। শাটল ট্রেন চলাচল ও শিক্ষকবাস চলাচল বন্ধ থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম।
এদিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে অছাত্র ও হামলার পরিকল্পনাকারী উল্লেখ করে তার বহিষ্কার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে চবি ছাত্রলীগের একাংশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজয় গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এইচ এম তারেকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নির্দেশে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আমরা এ হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং দ্রুত তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে দাবি জানাচ্ছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলবে।
চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন মাস্টার জাফরুল্লাহ মজুমদার বলেন, শাটল ট্রেনের চালক অপহরণ এবং ট্রেনের হুইস পাইপ কেটে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গামী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রণব মিত্র চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা দুই গ্রুপের নেতাদের সাথেই কথা বলেছিলাম আলোচনা করার জন্য। তবে তারা কেউই এখনো কোনো যোগাযোগ করেনি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আশা করি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক হবে।
এর আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন কর্মী আহত হয়। বিবাদমান শাখা ছাত্রলীগের বিজয় ও সিএফসির গ্রুপ দুটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
