যৌতুক চেয়ে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫১ পিএম

ঈশ্বরদীতে যৌতুক চেয়ে অনন্যা খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার ঈশ্বরদী সরকারী কলেজ মাঠে জানাজা শেষে ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শনিবার বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ অনন্যার মৃত্যু হয়। গৃহবধূ অনন্যার ৪ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

অনন্যা ঈশ্বরদী শহরের পূর্বটেংরী কলেজ গেট এলাকার আনোয়ার হোসেন এর মেয়ে। অনন্যার স্বামী ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর তিন শিমূলতলা এলাকার আফজাল মোল্লার ছেলে মো. হাসান মোল্লা। যৌতুকের কারণে স্বামী হাসান মোল্লা তার স্ত্রী অনন্যাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের বাবা।

এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে নিহতের বাবা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হাসান মোল্লাসহ তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, প্রায় দেড় বছর পূর্বে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর তিন শিমূলতলা গ্রামের আফজাল মোল্লার ছেলে মো. হাসান মোল্লার সাথে অনন্যার বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে অন্যনাকে নির্যাতন শুরু করে তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। প্রায়ই তাকে মারধর করে নির্যাতন করা হতো।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আবারও অনন্যাকে তার বাবার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্বামী হাসান মোল্লা চাপ দেয়। এতে অনন্যা অস্বীকৃতি জানালে তাকে তার স্বামী স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে বেদম মারপিট করে শ্বাসরোধ করে। সে সময় অনন্যা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রথমে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে অনন্যার জ্ঞান না ফিরলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে দুইদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত শনিবার বিকেলে অনন্যার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে অনন্যার পরিবারের লোকজন সেখানে গেলেও তাদের কাছে পুরো ঘটনাটি গোপন রাখা হয়।

এক পর্যায়ে অনন্যার বাবা আনোয়ার হোসেন বিষয়টি টের পেয়ে গেলে তার মেয়ের লাশ নিয়ে আসার সময় মাঝ পথেই স্বামী হাসান মোল্লাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা চিকিৎসার যাবতীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যায়।

অনন্যার বাবা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে থানায় মামলা না করার জন্য হাসান মোল্লাসহ তার পরিবারের লোকজন নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত