ক্রিকেটে যেকোনো ম্যাচে এক দলে ১১ জন ক্রিকেটার থাকেন। সবাই ব্যাট করার সুযোগ পান। কিন্তু কখনই আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১১ জনের বেশি ব্যাট হাতে নামার নিয়ম নেই। ইতিহাসে এই প্রথম নিয়মটি ভাঙল কিংস্টন টেস্টে। ভারতের বিপক্ষে উইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ জন ব্যাটসম্যান ব্যাট করেছেন।
অভিনব এই কা-টি ঘটেছে অবশ্য আইসিসির বেঁধে দেওয়া নিয়মের মধ্যে থেকেই। ব্যাটসম্যান ড্যারেন ব্রাভোর বদলে ব্যাটিং করেছেন জার্মেই ব্ল্যাকউড। জাসপ্রিত বুমরাহর একটি বাউন্সার ব্রাভোর হেলমেটে লাগে। হেলমেটের পেছনে থাকা স্টেম গার্ড ভেঙে যায় তাতে। বল থেকে ঘাড়ের অংশ বাঁচানোর জন্য ব্যবহৃত হওয়া ওই গার্ড থাকা সত্ত্বেও আঘাত থেকে বাঁচতে পারেননি ব্রাভো। প্যাভিলিয়নে ফিরে আর ফিরতে পারেননি।
আইসিসির নতুন নিয়ম বলছে, খেলা চলাকালীন কোনো ব্যাটসম্যানের এমন অবস্থা হলে তার পরিবর্তে অপর একজন ব্যাটসম্যানকে নামাতে পারবে ভুক্তভোগী দল। এ নিয়ম মেনেই ম্যাচ রেফারি ডেভিড বুনের কাছে ব্ল্যাকউডকে খেলানোর আবেদন জানায় স্বাগতিকরা। অনুমতিও পেয়ে যায় তারা। এই ব্ল্যাকউডই ইতিহাসের প্রথম বদলি ব্যাটসম্যান যিনি একাদশে না থাকলেও পরে ব্যাটিং অর্ডারে থেকেছেন। ব্রাভো নিজের ইনিংসে ৪১ বলে ২৩ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন। বদলি ব্ল্যাকউড ৭২ বলে ৩৮ করেন।
ঠিক একই কা- ঘটেছিল লর্ডসে গত মাসে হওয়া অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে। ওই ম্যাচেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বদলি খেলোয়াড় নামানোর নিয়ম কার্যকর হয়। জোফরা আর্চারের বাউন্সারে ঘাড়ে আঘাত পান স্টিভেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে ওই আঘাত সত্ত্বেও নিজের ইনিংস শেষ করেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান। তাই ওই ইনিংসে অন্য কোনো ব্যাটসম্যানকে তার বদলি হিসেবে নামতে হয়নি। কনকাশনের শিকার স্মিথকে ম্যাচ থেকে সরিয়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া। মারনাস লাবুশেন বদলি হিসেবে খেলেন দ্বিতীয় ইনিংস। অজিদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যান তাই ১১ জনই থাকেন।
অবশ্য একজন পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান খেলিয়েও নিজেদের ব্যাটিং দৈন্যের কোনো বদল আনতে পারেনি উইন্ডিজ। টানা দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে ভারতের কাছে। এবার ২৫৭ রানে হেরে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে স্বাগতিকরা। ৪৬৮ রানের অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয় ক্যারিবিয়ানরা।
এমন অসহায় আত্মসমর্পণ করে কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। জানালেন এই সমস্যা সহজে কাটিয়ে ওঠার নয়, ‘আমার মনে হয় এমন ব্যর্থতা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ব্যাটসম্যানদের কাছে এর কোনো উত্তর নেই, আমার কাছেও নেই। এই সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যাবে না। এখানে খেলোয়াড় পাল্টেও কাজে দেবে না। আমাদের এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।’ উন্নতির জন্য বোর্ডকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের মান উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হোল্ডার। পাশাপাশি নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলেছেন অধিনায়ক, ‘এখন আমাদের দুঃখ করার কিছু নেই বা মন খারাপ করে বসে থাকলেও চলবে না। আমরা এখন বিভিন্ন বিষয় টেবিলে রাখতে পারি আলোচনার জন্য। এসব নিয়ে এক, দুই করে এগোতে হবে। প্রথমে যেখান থেকে ক্রিকেটার আসে সেই দিকগুলো মানে প্রথম শ্রেণি ও ফ্র্যাঞ্চাইজির মান বাড়াতে হবে। এই টেস্ট দল কিন্তু খারাপ নয়। আমি বিশ্বাস করি এই দলের চেষ্টা উইন্ডিজকে অনেক সাফল্য এনে দেবে।’
এদিকে সিরিজ জয় দিয়ে নিজের অর্জনে নতুন পাতা যোগ করেছেন বিরাট কোহলি। ২৮তম ম্যাচ জয়ে নেতৃত্ব দিয়ে সবচেয়ে সফল ভারতীয় টেস্ট অধিনায়ক হয়েছেন, টপকেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। সাফল্যের কৃতিত্ব পুরোটাই দলকে দিয়েছেন কোহলি, ‘অধিনায়ক হওয়ায় আপনার নামের পাশে শুধু একটি ‘সি’ অক্ষর যুক্ত হয়। সাফল্য পুরোটাই আসে দলীয় প্রচেষ্টায়। তাই নিজের এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো দলের।’ বলেন, ‘টেস্ট দল হিসেবে ভারত এখন ভালো অবস্থানে। যেভাবে এগোচ্ছি তা দেখে আত্মবিশ্বাসী আমি।’
