ব্রেক্সিট বনাম নির্বাচন

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:২৮ এএম

চলতি সপ্তাহে ব্রেক্সিট সংকট এক নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছেদের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক সমস্যা সামনে আসায় আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকিয়ে দিলে আগামী অক্টোবরেই নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

যুক্তরাজ্যের আইন অনুসারে জনসন আগাম নির্বাচন চাইলে তাকে হাউজ অব কমন্সের দুই-তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেতে হবে। ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতিতে জনসন জানান, তিনি বিশ্বাস করেন হাউজ অব কমন্সের আইনপ্রণেতারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেবেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশন শুরুর দিন পার্লামেন্টের অধিকাংশ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। গত সোমবার কনজারভেটিভ পার্টির বিরোধী আইনপ্রণেতাদের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের হুমকির পর পরিস্থিতি আরও জটিলাকার ধারণ করেছে। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিকদের জন্য বর্তমান অবস্থা অনেকটা বাঁচামরার মতো।

জনসনের পার্টির অনেক আইনপ্রণেতাই মনে করেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। পাশাপাশি মিত্রদের কাছে যুক্তরাজ্যের সুনাম ভূলুণ্ঠিত হবে বলেও তারা মনে করেন। যে করেই হোক তারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট সম্ভাবনাকে রুখে দিতে চায়।

গত সপ্তাহে পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট মুলতবিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অনুরোধে রক্ষা করেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। জনসনের বক্তব্য ছিল, ব্রেক্সিট নিয়ে উদ্ভূত বাস্তবতায় নতুন নীতিমালার জন্য কিছু সময় দরকার। কিন্তু দেশটির অধিকাংশ রাজনীতিক, পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট নিশ্চিতের জন্যই জনসন রানীর কাছে পার্লামেন্টের অধিবেশন মুলতবির অনুরোধ জানিয়েছেন। সাবেক চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ডের মতো ব্যক্তিও এই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ফিলিপ হ্যামন্ড নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি চুক্তিহীন ব্রেক্সিট রুখতে জনসনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, ‘এই পরিকল্পনার বিরোধিতার জন্য পর্যাপ্ত মানুষকে পাওয়া যাবে।’ হ্যামন্ডের ডাকে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে স্যার জন মেজর ও তিনটি পার্টি পার্লামেন্ট মুলতবির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জিনা মিলারের আইনি পদক্ষেপের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এ বিষয়ে দুটি মামলার শুনানি হবে। মামলা দুটির মধ্যে একটি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছুক স্কটল্যান্ডের ৭০ রাজনীতিকের একটি প্যানেল। অন্য মামলাটি করেছে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্যাম্পেইনার রেমন্ড ম্যাককর্ড। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বিরোধিতার ফলে যুক্তরাজ্য কার্যত অচল হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিবিসি রেডিও ফোরকে তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেকোনো শর্ত মানতে বলছে তারা, সেই শর্ত যতই কঠিন হোক না কেন। ইইউর শর্তের কারণে যুক্তরাজ্যের জনগণের দেওয়া আয়কর থেকে প্রতি মাসে এক বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত বের হয়ে যাবে।’

বিরোধীরা হাউজ অব কমন্সের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে বাকি থাকবে হাউজ অব লর্ডসের দুয়ার। তবে চুক্তিহীন বিষয়টি হাউজ অব লর্ডসে যাওয়াকে সময়ক্ষেপণ হিসেবে দেখছেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক টরি ট্রেভার্স।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত