আসামে নাগরিকত্ব হারালেন কাশ্মীরে কর্মরত সেনা সদস্য সুমন দাসও

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:১১ পিএম

আসামে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্যই। যার মধ্যে আছে স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবার থেকে শুরু করে কারগিল যুদ্ধে লড়াইরত সেনা কর্মকর্তাও।

এমনকি বাদ পড়েছেন কাশ্মীরে কর্মরত আধা সামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ)  এক সদস্যও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গণশক্তি জানায়,  ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের প্রকাশিত নাগরিক তালিকাতে (এনআরসি) নাম নেই সিআরপিএফ সদস্য সুমন দাসের। তিনি এখন অবরুদ্ধ কাশ্মীরে কর্মরত আছেন।

শনিবার এনআরসিতে বাদ পড়েন ১৯ লাখ মানুষ। নাগরিকত্ব হারানো বিপুলসংখ্যক এসব মানুষের মধ্যে আছেন সুমনও।

তিনি দক্ষিণ আসামের বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলার দিগরখালের বাসিন্দা। রবিবার সকালেই ক্যাম্প ফোন থেকে বাড়িতে কথা বলেন সুমন।

সুমনের বাবা সমর দাস জানান,  নাম নেই শুনে বেশ কিছুটা ভেঙে পড়েছে সে। ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে বাড়িতে আসতে চাইছে। আজই ছুটির আবেদন করেছে। মিলবে কিনা কে জানে?

শুধু সুমন দাসই নয় নাগরিকত্ব হারিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছবীন্দ্র শর্মা ও তার স্ত্রী। শোনিতপুর বাসিন্দা ছবীন্দ্র শর্মার বাবা তেজপ্রসাদ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। ছোটকাল থেকেই ছেলেকেও উৎসাহ দিয়ে গেছেন দেশসেবায়। মোদির শাসনে এবার সেই স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবার হয়ে পড়ল রাষ্ট্রহীন।

এনআরসি’তে জায়গা হয়নি কারগিলে যুদ্ধ করা সেনা সদস্য সানাউল্লারও। চূড়ান্ত তালিকায় নাম নেই তার পরিবারের কারওরই। সানাউল্লাহকে গ্রেপ্তারও করা হয়। যদিও গুয়াহাটি হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত এবং তাদের বহিষ্কারের লক্ষ্যে ভারতের বিজেপি সরকার এই তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়।

তবে বাংলাদেশ সরকারের দাবি করে আসছে, আসামে তাদের কোনো নাগরিক নেই

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তিন কোটি ২০ লাখ মানুষের দলিলপত্র যাচাই করে প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর ওই খসড়ার দ্বিতীয় তালিকাটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই।

যারা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চের আগে তারা আসামে এসে হাজির হয়েছেন, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এনআরসিতে।

যারা ১৯৭১ সালের পর জন্মগ্রহণ করেছেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে তাদের প্রমাণ করতে হয়েছে যে তাদের বাবা-মা কিংবা তাদের বাবা-মা ওই তারিখের আগে থেকেই রাজ্যটির বাসিন্দা।

তবে চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা প্রকাশের পরও এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ এখনই বন্ধ হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার এর মধ্যে জানিয়েছে, যারা চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়বে তারা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নাগরিকত্ব যাচাই করার পুনরায় সুযোগ পাবে।

তালিকা প্রকাশের পর আপিল করার জন্য সময় ৬০ দিন থেকে ১২০ দিন করা হয়েছে। আপিল জানাতে কাজ করছে ১০০টি ফরেইনার্স ট্রাইব্যুনাল (এফটিএস), অতিরিক্ত আরও ২০০টি এফটিএস গঠন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আবেদনের পরেও যদি কেউ নাগরিকত্ব হারায় উচ্চ আদালতে গিয়ে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ থাকছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত