যমুনার ভাঙনে শাহজাদপুরে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৫৭ এএম

বন্যার পর যমুনা নদীতে পানি কমতে থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ী, বাঐখোলা, পাকুরতলা, আরকান্দি, ব্রাহ্মণগ্রাম, ভেকা ও হাটপাচিল গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, চার বিঘা ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শত শত মানুষ। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অসহায় এসব মানুষ যমুনার ভাঙনরোধে তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙন এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। তারপরও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।

এ বিষয়ে ভাঙনকবলিত ঘাটাবাড়ী গ্রামের এরশাদ আলী, সুজাব আলী, আবু হানিফ, তয়জাল শেখ, কহিনুর বেগম, রুহুল সরকার, শহিদ আলী জানান, বন্যার পানি কমতে থাকায় যমুনা নদীতে গত দুদিন হলো তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনের তা-বে সাতটি গ্রামর শত শত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। এছাড়া এ ভাঙনে বাঐখোলা গ্রামটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। এলাকাবাসী সব হারিয়ে অন্যের ফাঁকা জমিতে আশ্রয় নিয়ে ছাপড়া তুলে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছে, অথবা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

তারা আরও জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এ ভাঙন রোধ করা না হলে ভাঙনকবলিত ছয়টি গ্রামও অচিরেই বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকে চিরবিদায় নেবে। তাই এ গ্রামগুলো রক্ষায় দ্রুত তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সিরাজগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। তারপরও ভাঙন রোধে তারা এখনো কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেননি। ফলে গত দুদিনে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ ও অসংখ্য বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে সিরাজগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করি অচিরেই তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত