ছাত্রলীগ নেতার মারধরের বিচার না হলে আলোচনায় বসবে না আন্দোলনকারীরা

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৪৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের এক নেতাকে ছাত্রলীগ নেতার মারধরে ভেস্তে গেল প্রশাসনের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা।

জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাইমুমকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মণ্ডলের বিরুদ্ধে।

শনিবার আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ মুহূর্তে মারধরের ঘটনা ঘটে।

মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতাকে হল থেকে বিতাড়ন ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে আলোচনা বর্জন করে তাৎক্ষণিক মিছিল করে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিচার না হলে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়ে দেন তারা।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক জরুরি বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়।

মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতার দাবি, আন্দোলনের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানারও দাবি ছাত্রলীগ আন্দোলনের ব্যাপারে এমন মনোভাব পোষণ করে না।

তবে অভিযুক্ত অভিষেক মণ্ডলের ছাত্রত্ব এক বছরেরও বেশি সময় আগে শেষ হয়েছে। তিনি ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক জব্বার হল সংলগ্ন খাবার দোকানে নাশতা করতে গেলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার পাশে বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনাটি ঘটে।

মারধরের শিকার নুরুল ইসলাম সাইমুম বলেন, ‘আমি সকালের নাশতা করতে দোকানে গেলে আমার মোবাইলে একটা জরুরি কল আসে, রিসিভ করে কথা বলতে থাকি। কিন্তু পাশে বসে থাকা অভিষেক হঠাৎ আমার ওপর চড়াও হন। আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। আমি নিজের পরিচয় দিই। এ সময় জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আমাকে মারধর শুরু করেন। সঙ্গে থাকা তার বন্ধু আমার হাত চেপে ধরে। আর অভিষেক দোকানে থাকা কাঠ দিয়ে আমাকে মারধর করতে থাকে’।

 মারধরের বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান সাইমুম।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা অভিষেক মণ্ডল বলেন, ‘ ঘটনার সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। সে আন্দোলনকারী কিনা সেটাও জানতাম না আমি। সকালে আমি এবং আমার বন্ধু দোকানে নাশতা করতে যাই। সাইমুম আমাদের টেবিলে বসে। কিন্তু সে উচ্চ স্বরে কথা বলতে থাকে এবং দোকানের বাচ্চাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। আমি তখন তাকে অন্য টেবিলে গিয়ে বসতে বলি। কিন্তু সে উল্টো আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। আমিও আহত হয়েছি। তার উদ্ধত আচরণের কারণেই এমনটা ঘটেছে।’

মারধরের বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সরকার দলীয় ছাত্র নেতার হাতে আমাদের কর্মী মারধরের শিকার হচ্ছেন। আলোচনা এবং মারধর একসঙ্গে চলতে পারে না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতার যেহেতু ছাত্রত্ব নেই তাই তাকে আগে হল থেকে বের করতে হবে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তারপর আমরা আলোচনায় বসব’।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘অভিযুক্ত যেহেতু সাবেক শিক্ষার্থী তাই প্রশাসন মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে। আজকে তো আর আলোচনা হলো না। হয়তো কাল-পরশু ফের আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হবে’।

 শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘এটা ব্যক্তি পর্যায়ের একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো যোগ নেই।’

এর আগে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পের টাকা থেকে নির্মাণকাজ বাধাহীনভাবে সম্পন্ন করতে শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

এরপরই দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও মাস্টারপ্ল্যানের সংশোধন দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

গত সপ্তাহে মশাল মিছিলে অংশ নিয়ে হলে ফিরে গেলে এক ছাত্রলীগ নেতার হাতে মারধরের শিকার হন ৪৮ ব্যাচে আল বেরুনী হলের শিক্ষার্থী সোহায়েব ইবনে মাসুদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত