দীর্ঘ নেতৃত্ব আর দম্ভে ডুবছে আলফাডাঙ্গা আওয়ামী লীগ

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:২৫ এএম

আলফাডাঙ্গা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কার্যত দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি এ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবির ভেতর দিয়ে এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া দলীয় কর্মকাণ্ডে একধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। এই ঘটনার জন্য দলের একাংশের অভিযোগের আঙুল তুলেছেন, দলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আকরাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় দলের আরেক প্রবীণ নেতা মো. নূরুল বাশার মিয়াকে। এই দুই নেতা এর আগেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদে দায়িত্বে ছিলেন। দলের শীর্ষ পদে থাকা দুই নেতা বয়সের ভারে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় এখন। যে কারণে দলের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি।

সময় মতো সম্মেলন না হওয়ায় উপজেলার তরুণ ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থীদের ভরাডুবির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান কমিটির সভাপতি শেখ আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এলাকায়।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ দলের শীর্ষ নেতাদের নিষ্ক্রিয়তার প্রসঙ্গে বলেন, ওই দুই নেতার উদাসীনতা ও অযোগ্য প্রার্থী মনোনীত করায় এমন পরাজয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দলকে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করে সভাপতিই আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করেছেন।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহাদুল হাসান বলেন, ‘আলফাডাঙ্গা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধই আছে। শুধু ভাগ হয়ে গেছেন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক।’

দীর্ঘ দিন আলফাডাঙ্গা আওয়ামী লীগের সম্মেলন না হওয়া বিষয়ে স্থানীয় এমপি মনজুর হোসেন বুলবুল বলেন, সম্মেলনের বিষয়টি নিয়ে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

আলফাডাঙ্গা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমার পরিবারে যদি যোগ্য লোক থাকে তো অবশ্যই তারা দলীয় পদ পাবে। আওয়ামী লীগ অফিস ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রদীপ নামে স্টিলের দোকানদার নিচ তলায় ব্যবসা করে, আমরা বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে চেয়ার বা মাইক নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড করি। এই কারণেই তাকে ব্যবসা করতে দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত