পাবনায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে সদর থানা চত্বরে অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন ও ধর্ষণ মামলা গ্রহণের নির্দেশের পাশাপাশি ওসিকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে জেলা পুলিশ।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
পুলিশ সুপার জানান, সদর থানার দাপুনিয়ায় এক গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণের পর মামলা না নিয়ে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ের ঘটনাটি দৈনিক দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) গৌতম কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিকেলে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগটি ধর্ষণ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক থানা চত্বরে কেন এমন কাজ করলেন তার ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও অধিকতর তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে বিয়ের কাজী মাও. আজম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাকে থানায় ডেকে নিয়ে বিয়ে পড়াতে বলা হয়। প্রথমে বিয়ে দিতে অস্বীকার করি, কেননা এই বিয়ে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। পরে ওসি স্যারের চাপের প্রেক্ষিতে তালাক প্রদান সাপেক্ষে আমাকে বাধ্য করানো হয় বিয়ে পড়ানোতে। আমার কিছুই করার ছিল না।
এদিকে গণমাধ্যমে কথা বলায় ওই এলাকায় সোমবার সকাল থেকে পুলিশের লোকজন ও দাপুনিয়া ইউনিয়নের ঘন্টু মাতবর নামের এক ব্যক্তি বিভিন্নভাবে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদান করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, এই ঘন্টুও অভিযুক্ত পাঁচ ধর্ষকের একজন।
প্রসঙ্গত, পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক নারীকে গত ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে অপহরণ করে টানা চার দিন ধরে দল বেঁধে করে। পরে গৃহবধূ বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করলেও মামলা নথিভুক্ত না করে ধর্ষিতাকে তার সঙ্গে থানা চত্বরে বিয়ে দিয়ে ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা চালায়।
