বিয়ের দাবিতে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে তরুণীর অনশন

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৪ পিএম

ঠাকুরগাঁও উপজেলার রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে বিয়ের দাবিতে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে গত ১০ দিন ধরে এক তরুণী অনশন করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইউনিয়নের কানিকশালগাঁও গ্রামে ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সজলের (২৫) বাড়িতে অবস্থান নিয়ে মেয়েটি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান। সজলের বাবা হামিদুল ইসলাম বলেন, গত ৩১ আগস্ট থেকে ওই তরুণী তাদের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।

ওই তরুণী অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সজল আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে তাকে বিয়ে করতে বললে সে রাজি না বলে জানায়। তাই আমি তার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছি। আমি তাকে বিয়ে করব। তা না হলে আমি আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নাই।

এর আগে ওই তরুণী সজলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। সে মামলার পুলিশ তাকে আটক করে। সজল জামিন মুক্ত হওয়ার দিন আবারও ওই তরুণী অনশন শুরু করেন।

এ বিষয়ে ওই তরুণী বলেন, জেলে থাকার সময় সজল বলেছে সে যেদিন জেল থেকে বের হবে সেদিন যেন আমি তার বাড়িতে যাই। তাই এসেছি। কিন্তু এখন সে বিয়ে করছে না।

এ বিষয়ে সজলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া মেলেনি।

সজলের মা সাহেরা বানু বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এটা সত্য।

সজলের বাবা হামিদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণ মামলায় আমার ছেলে ৬১ দিন কারাগারে ছিল। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে গত ৩১ আগস্ট সজল বাড়ি আসার কিছুক্ষণ পর তার প্রেমিকা আমাদের বাড়িতে চলে আসে। সে তার পরিবারের লোকজনের সহায়তায় বাড়ির একটি কক্ষে ঢুকে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু বলেন, মেয়ে পক্ষ থেকে সমাধানে রাজি হয়েছে; তবে ছেলে পক্ষ রাজি নয়। আমার অনেকবার ছেলে পক্ষকে সমাধানের কথা বলার পরও তাদের দিক থেকে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ওই তরুণীর করা ধর্ষণ মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলে রুহিয়া থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, আমরা এখনো মেডিকেল রিপোর্ট পাইনি। সেটা পেলে অগ্রগতি বলা যাবে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার পারভেজ পুলক বলেন, সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে দায়ে সজলকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত