ভারতে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যাকে হৃদ্‌রোগে মৃত্যু বলল পুলিশ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:০৮ পিএম

ভারতের ঝাড়খণ্ডে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে হৃদ্‌রোগে আক্রান্তে মৃত্যু বলে চালিয়ে দিল পুলিশ। সেই সঙ্গে তুলে নেওয়া হচ্ছে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ১১ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও।  

গত জুন মাসে চোর অপবাদ দিয়ে ১৮ ঘণ্টা ধরে নৃশংসভাবে পেটানো হয় তাবরেজ আনসারি নামে এই যুবককে। জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ বলতে বাধ্য করা হয় ওই তাকে।

পুলিশে হেফাজতে চিকিৎসা চলাকালীন ২৪ বছর বয়সী এই যুবকের মৃত্যু ঘটে। ঝাড়খণ্ডের খারসাওয়ানের এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ভারত জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে।

পুনেতে দিনমজুরের কাজ করতেন তাবরেজ। ঈদে পরিবারের সঙ্গে কাটাতে তিনি গ্রামে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই তার বিয়ের আয়োজন করেছিল পরিবার।

এ দিকে পুলিশ জানায়, তাবরেজ আনসারির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে গণপিটুনিতে নয়, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ।

ঝাড়খণ্ডের পুলিশ কর্মকর্তা কার্তিক এস বলেন, “মেডিকেল রিপোর্টে হত্যার পক্ষে কোনো সমর্থনযোগ্য প্রমাণ মেলেনি যার ভিত্তিতে আমরা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করাতে পারি।”

তিনি এও জানান যে, দুটি পৃথক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে একই জিনিস পাওয়া গেছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন তাবরেজ আনসারি।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমরা প্রথমবার যখন এই মেডিকেল রিপোর্ট পাই তখন আমরা উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে দ্বিতীয়বার মতামত চেয়েছিলাম।কিন্তু তারাও একই মতামত দিয়েছে।”

মৃত তাবরেজ আনসারির পরিবারের অভিযোগ ছিল যে তার মাথা একেবারে মেরে থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন,  তারা কেবলমাত্র মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ীই পদক্ষেপ করতে পারেন।

তাবরেজ আনসারির মৃত্যুর পর সারাইকেলা-খারওয়ানের জেলা প্রশাসক অঞ্জনেউলু দোডের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল প্রাথমিকভাবে পুলিশ এবং তদন্তকারী চিকিৎসক উভয়কেই তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছিলেন।

জুলাই মাসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “পুলিশ দেরিতে পৌঁছায় চিকিৎসকেরাও মাথার খুলির আঘাতের সঠিক পরিমাণ শনাক্ত করতে পারেননি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত