থানায় ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ে: ওসি প্রত্যাহার, এসআই বরখাস্ত

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৫০ পিএম

পাবনায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে সদর থানা চত্বরে অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সদর থানার ওসি ওবাইদুল হককে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিয়ের ঘটনায় জড়িত থাকায় সদর থানার উপপরিদর্শক একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, সদর থানার দাপুনিয়ায় এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের পর মামলা না নিয়ে ধর্ষকের সাথে বিয়ের ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে পুলিশ ঘটনা তদন্তে নামে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় ধর্ষণ মামলা হিসেবে মামলাটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে এ মামলায় অভিযুক্ত রাসেল ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এছাড়া মঙ্গলবার রাতে পুলিশ আরও দুই আসামি হোসেন আলী ও সঞ্জুকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে মামলার মোট পাঁচ আসামির চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের মধ্যে রাসেল ও হোসেন ১৬৪ ধারায় ধর্ষণের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ২৯ আগস্ট রাতে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে রাসেল, ঘন্টু, ওসমান, হোসেন ও সঞ্জু নামের ৫ যুবক আটকে রেখে টানা ৪ দিন ধরে ধর্ষণ করে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত না করে অভিযুক্ত এক ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে থানা চত্বরে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটির নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন ওসি। এ সংবাদ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে।

এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে জেলা পুলিশ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয় এবং পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবাইদুল হক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক ইকরামুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে।

পাবনা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৯ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ ৫ জনকে আসামি করে মামলাটি নথিভুক্ত করে এবং ধর্ষণের অভিযোগে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। পরে বুধবার সকালে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকে ঘন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত