শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। ভোলাই মুন্সীকান্দি ও শাকিম আলি মাদবরকান্দি গ্রামের মন্টু ও এমদাদের গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল ১১টার দিকে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন- রাসেল মাদবর (২৫), জালু মাদবর (৬৫), জুয়েল ব্যাপারী (২৭), জিল্লু মুন্সী (২৬), নুরুল হক মাদর (৬৫), আব্দুল করিম মাদবর (২৮), বাবু মাদবর (৩০), খবির মাদবর (৪৫), আওলাদ মাদবর (২২), শিপন মাদবর (৩০), জসিম খালাসী (৫০), ইমন মাদবর (২০), টিটু সরদার (২৫), ফারুক সরদার (৩৫), সালাম সরদার (৬৫), পারভেজ মাদবর (২০) ও রিপন মাদবর (৩৫) ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের ভোলাই মুন্সীকান্দি গ্রামের মন্টু ব্যাপারী (৫০) ও শাকিম আলি মাদবরকান্দি গ্রামের এমদাদ মাদবর (৫৫) গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়।
এরই সূত্র ধরে শনিবার সকাল ১১টার দিকে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে দুই গ্রুপের লোকজন প্রায় ২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ও ইট নিক্ষেপ করে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়।
আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমম্পেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দে্ওয়া হচ্ছে । এর মধ্যে ৫জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে দুটি গ্রামে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
ভোলাই মুন্সীকান্দি গ্রামের মন্টু বেপারী বলেন, এমদাদ মাদবরের হুকুমে সকালে তার লোকজন আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়, বাড়িতে ভাঙচুর করে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তাদের হামলায় আমার লোকজন আহত হয়েছে।
এদিকে শাকিম আলি মাদবরকান্দি গ্রামের এমদাদ মাদবরের পক্ষে মাস্টার আব্দুল করিম মিয়া বলেন, আমাদের লোকজন সকালে যার যার কাজ করছিল। হঠাৎ মন্টু বেপারী তার সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালায় ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আমাদের ১৪জন গুরুতর আহত হয়। আমরা এ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন জখমের রোগী হাসপাতালে আসে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাদের ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেছি।
এ ব্যাপারে জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা পাঁচজনকে আটক করেছি।
