দেনার দায়ে দিশেহারা লিবিয়ায় নিহত শাহজালালের পরিবার

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৪৮ পিএম

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার একটি অভিবাসী আটক ক্যাম্পে বিমান হামলার ঘটনায় নিহত শাহজালাল কাজীর মরদেহ তার নিজ বাড়ি মাদারীপুরে দাফন করা হয়েছে। সোমবার সকালে তার মরদেহ মাদারীপুরের সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের খাকছাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছায়।

জীবিকার তাগিদে বিদেশ গিয়ে বিমান হামলায় নিহত এ যুবকের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছালে শোকের আবহ নেমে আসে পুরো গ্রামে। হাজার হাজার মানুষ নিহতের মরদেহ দেখতে ভিড় জমায় তার বাড়িতে। এর আগে রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় নিহতের মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

সোমবার শাহজালালের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর শোকে কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারাচ্ছেন নিহতের স্ত্রী সোনিয়া। যখনই একটু জ্ঞান আসে তখনই বিলাপ করতে থাকেন। তিনি জানান, শাহজালালের ৬ লাখ টাকা ঋণ রয়ে গেছে। ধার দেনা পরিশোধ ও একমাত্র মেয়েকে মানুষ করার জন্য বিদেশ গেল, কিন্তু সে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল, কিছুই হলো না। এখন মেয়েকে মানুষ করব কিভাবে? দেনা পরিশোধ করব কিভাবে?

২০১৮ সালে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যায় মাদারীপুরের শাহজালাল কাজী। পরে লিবিয়ার পুলিশের হাতে আটক হন সে। সেখানে তাকে অন্যদের সঙ্গে ত্রিপোলির পূর্বাঞ্চলের একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। ২০১৯ সালের ২ জুলাই মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোরে ওই অভিবাসী আটক কেন্দ্রে বিমান হামলা চালালে নিহত হন মাদারীপুরের শাহজালাল।

লিবিয়ার ওই আটক কেন্দ্রে শাহজালালের সঙ্গে ছিলেন শহিদুল ইসলাম। তারা দুজনই বোমা হামলার শিকার হলে শাহজালাল ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং শহিদুল ইসলাম আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন।

শহিদুল সেই লোমহর্ষক বিমান হামলার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, তারা প্রায় দুই মাস লিবিয়ায় বন্দী ছিল, কেউ কোন খোঁজ নেয়নি। শাহজালাল মারা যাওয়ার ১০দিন আগে এক দালালের মাধ্যমে দেশে যোগাযোগ করি পরে পরিবারের কথায় ওই দেশের দালালরা আমাদের মুক্তি করার আশ্বাস দেন। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার আগেই বোমা হামলার শিকার হই। এক সপ্তাহ আগে আমি দেশে প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারলেও আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না।  

নিহত শাহজালালের বাবা ফজল কাজী বলেন, লিবিয়াতে গিয়েই তারা পুলিশের হাতে আটক হয়। কিছুদিন ওদের খোঁজ না পাওয়ায় দালালেরা জানিয়েছিল তারা ইতালি পৌঁছে গেছে। কিন্তু কিছুদিন পরেই শাহজালাল ফোনে জানায় তারা পুলিশের হাতে বন্দী। তিনি আরও বলেন, এ সময় দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, ওদের ছাড়াতে দুই লাখ টাকা দাবি করে। টাকাও গোছানো হয়। কিন্তু আমার ছেলে আর নেই। বিমান হামলায় মারা গেলো সে। আজ আমার ছেলের নিথর দেহ বাড়ি ফিরল! আমি ছেলেও হারালাম লাখ লাখ টাকা দেনা রয়ে গেলাম।

নিহত শাহজালালের বোন রুবি আক্তার বলেন, আমার ভাইয়ের লাশ আজ দাফন হলো। সব স্বপ্ন শেষ আমাদের। ভাইয়ের একমাত্র শিশু কন্যাটির ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত!'

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মল্লিক বলেন, শাহজালাল অনেক কষ্ট করে জমি জমা বিক্রি ও ধার দেনা করে বিদেশে গেছে শুনছি, তবে সে সিরিজ বোমা হামলায় মারা গেছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সকল প্রকার সহযোগিতা করব। আমি আবেদন করব সরকারিভাবে যেন পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত