রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ইসিতে আনা হয়েছে: কবিতা খানম

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:০২ পিএম

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গারা যাতে অন্তর্ভূক্ত হতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের সকল থানা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।  

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে যেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে, তাদের বায়োমেট্রিক নেওয়া আছে। পাসপোর্ট অফিস এসব বায়োমেট্রিক সংগ্রহ করেছে। এসব বায়োমেট্রিকের কপি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনা হয়েছে।’

কবিতা খানম বলেন, ‌‘বর্তমানে নির্বাচন কমিশনেও বায়োমেট্রিক নিচ্ছি। ভোটার তালিকা করার আগের বায়োমেট্রিক চট্টগ্রামের বিশেষ এলাকা মেস না করা পর্যন্ত সার্ভারে আসবে না। সার্ভারে ওভাবে তৈরি করা আছে।  ক্রসমেস করা হবে। নির্বাচন কমিশনের বায়োমেট্রিকের সাথে যদি ওই বায়োমেট্রিক মিলে যায়, তাহলে রোহিঙ্গারা শনাক্ত হয়ে যাবে। এর আগে যেই রোহিঙ্গারা ভোটার হয়েছিল, তাদেরও তালিকা করা হচ্ছে। তাদেরও বাদ দেওয়া হবে’।

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অনুর্ভূক্তি করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত থাকলে, এক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অনুর্ভূক্তির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের  গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের তদন্তে ৪৬ জন রোহিঙ্গাদের নাম অনুর্ভূক্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছে।  সে ক্ষেত্রে যদি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।  

আর যদি বাইরের কেউ যদি সিন্ডিকেট করে এসব করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে কোনভাবে ভোটার তালিকায় না আসতে পারে, সেই জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে নির্ভূল ভোটার তালিকা উপহার দিয়েছি। নির্বাচন কর্মকর্তারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় আনবে না। জন্মনিবন্ধনসহ অনেক কিছু দেখে ভোটার করা হয়। তাদের সেই সুযোগ নেই। ভোটার হতে বা জাতীয় পরিচয় পেতে নির্ধারিত কিছু ডকুমেন্টের পাশাপাশি পার্সোনাল হিয়ারিং করার বিষয়েও সুপারিশ করেছে নির্বাচনের কমিশনের বিশেষ কমিটি। কেননা, অনেক সময় ডকুমেন্ট দিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত হয় না। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কর্মকর্তারা যদি সামনাসামনি কথা বলতে পারে, তাহলে রোহিঙ্গারা সহজেই শনাক্ত হবে’।

এসময় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনির হোসাইন খান, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত