গ্রামীণফোনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধির পরও সূচকের পতন

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:১৮ এএম

পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় মূলধনী কোম্পানি গ্রামীণফোন। সরকারি ট্রেজারি বন্ড ছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধনের প্রায় ১৫ শতাংশই এ কোম্পানির দখলে। এ কারণে গ্রামীণফোনের শেয়ারের হ্রাস-বৃদ্ধিতে সূচকে বড় প্রভাব ফেলে। সরকারের পাওনা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে গ্রামীণফোনের বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগে গতকাল শেয়ারটির দর সর্বোচ্চ বেড়েছে। তবে এ শেয়ারটির সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধিতেও সূচকের পতন থামেনি।

গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৭৬ শতাংশ শেয়ারের দর কমেছে। গ্রামীণফোন ছাড়া বড় মূলধনী বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৩২ পয়েন্ট কমে ৪৮৫৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বৈঠকের পর টানা তিন দিনের পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি হারিয়েছে ১০৪ পয়েন্ট।

এদিকে শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সরকারের প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার পাওনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সমঝোতার মাধ্যমে ওই দুই অপারেটরের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর প্রভাবে গতকাল পুঁজিবাজারে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দর সর্বোচ্চ ২৬ টাকা ৯০ পয়সা বা ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে। ফলে গ্রামীণফোন একাই ডিএসইর প্রধান সূচকে ১৬ পয়েন্ট যোগ করেছে। এতে করে গতকাল লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় সূচকে বাড়তি পয়েন্ট যোগ হয়। তবে লেনদেনের দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রিচাপ বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পতন দিয়েই দিনের কেনাবেচা শেষ হয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ২৬৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির। লেনদেন হওয়া ৭৬ শতাংশ শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় ডিএসইর সূচক ফিরে গেছে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বরের অবস্থানে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যাওয়ার পাশাপাশি সূচকে প্রভাব বিস্তারকারী শীর্ষস্থানীয় মূলধনী কোম্পানি স্কয়ার ফার্মা, রেনেটা, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বিএটি বাংলাদেশ, ম্যারিকো, বার্জার, সামিট পাওয়ারের মতো কোম্পানি শেয়ারদর হারানোয় সূচক কমে গেছে।

খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল টেলিযোগাযোগ ও জীবন বীমা খাত ছাড়া অবশিষ্ট খাতগুলো বাজার মূলধন হারিয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রকৌশল, সিরামিকস, পাট, বস্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি ও ট্যানারি খাতের শেয়ারে। গতকাল এসব খাত ২ থেকে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাজার মূলধন হারিয়েছে। এছাড়া জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ, ফার্মাসিউটিক্যালস, সাধারণ বীমা, সেবা ও নির্মাণ খাত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দর হারিয়েছে। এদিকে দরপতনের কারণে গতকালও ডিএসইর লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা পেরোতে পারেনি। যদিও আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৩৮৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আগের দিন এর পরিমাণ ছিল ৩৭১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। লেনদেনে প্রাধান্য দেখা গেছে নির্মাণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, সাধারণ বীমা ও বিবিধ খাতে। একক কোম্পানি হিসেবে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেডে। এছাড়া ফরচুন সুজ, স্কয়ার ফার্মা, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, বিকন ফার্মা, জেএমআই সিরিঞ্জ, ইউনাইটেড পাওয়ার, লিগ্যাসী ফুটওয়্যার, মুন্নু সিরামিকস ও ন্যাশনাল পলিমারের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে গ্রামীণফোন, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এআইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন ব্যাংক, ঢাকা ডায়িং, শ্যামপুর সুগার, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল পলিমার, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স ও গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স।

গতকাল সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে বিআইএফসি, ফরচুন সুজ, মুন্নু সিরামিকস, জিকিউ বলপেন, ন্যাশনাল টিউবস, সিনোবাংলা, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, আইএলএফএসএল ও ফাস্ট ফাইন্যান্স।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত