১৯৭৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। ভোরের সূর্য ওঠার আগমুহূর্তে একটি বিস্ফোরণ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উপগ্রহ টিলটেল সংকেতে সেটি শনাক্ত হয়। দেশটির ফ্লোরিডার প্যাট্রিক এয়ার ফোর্সের কাছাকাছি দক্ষিণ আটলান্টিকে এমন পরমাণু বিস্ফোরণের পরপরই সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। শুরু হয় প্রশাসনে তোলপাড়। প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার হোয়াইট হাউজে জরুরি বৈঠক করেন।
কিন্তু সে সময়ে গুপ্ত এ বিস্ফোরণের পেছনে কারা ছিল তার কূল-কিনারা হয়নি। এরপর ৪০ বছর কেটে গেছে। অবশেষে সংকেত বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা এখন ওই বিস্ফোরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু রাষ্ট্র ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে বিপদে ফেলতেই সভ্যতা বিধ্বংসী এ অস্ত্রের গুপ্ত বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল তারা।
ফরেন পলিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি উপগ্রহ ভেলা ৬৯১১ হঠাৎ করেই দক্ষিণ আটলান্টিক অংশে পৃথিবীপৃষ্ঠে দুবার অস্বাভাবিক কিছু সংকেত পায়। এরপর অতীতের ডজনখানেক ঘটনা বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়, কেউ পরমাণুর পরীক্ষা চালিয়েছে। এরপর কার্টার প্রশাসনের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে এ ঘটনা। কারণ তার নেতৃত্বে তখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বড় সফলতার পথে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে। ইসরায়েল-মিসর শান্তি আলোচনা সফল। আর মস্কোর সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনাও আলো দেখাচ্ছে। আর এসব সাফল্য তুলে ধরে দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট হতে জিমি কার্টার তার প্রচার তুঙ্গে তুলেছেন।
কার্টার প্রশাসন শুরুতে ভেবেছিল, এ বিস্ফোরণের পেছনে হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার হাত রয়েছে। কিন্তু তারা এও জানত দেশটির পরমাণু কর্মসূচি কার্টার প্রশাসনই বন্ধ করেছে। পরে সম্ভাব্য দেশ হিসেবে ইসরায়েলের নাম এলেও সুসম্পর্কের কারণে সন্দেহ করতে পারেনি। এরপর ১৯৮০ সাল পর্যন্ত বহু বৈঠক করে নৌবাহিনীর ল্যাব ৩০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন করে। রুনিয়া নামে আরেক কমিশনও প্রতিবেদন দেয়। এতেও বিস্ফোরণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। বিস্ফোরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ইসরায়েলি লবিস্টরাও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
