যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের (এমএম কলেজ) এক শিক্ষার্থীকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় সুপারিশমতো বাড়তি নম্বর না দেওয়ায় পরীক্ষার হলে গিয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাশেদ খান মেনন গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজটির ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাশেদ খান মেনন এমএম কলেজের সাবেক ছাত্র। তিনি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দিতে সুপারিশ করেছিলেন।
মাস ছয় পর জানতে পারেন সেই শিক্ষার্থী সি-গ্রেড পেয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি দলবল নিয়ে বেলা ১১টার দিকে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে আসেন। সেখানে মাস্টার্স পার্ট-১ ব্যবহারিক পরীক্ষা চলছিল। কয়েকশ শিক্ষার্থী ও বহির্শিক্ষকের উপস্থিতিতে বিভাগের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি গালিগালাজ করেন। কেন ওই শিক্ষার্থীকে সুপারিশমতো নম্বর দেওয়া হলো না তার কৈফিয়ত চান।
একপর্যায়ে রাশেদ টেবিল চাপড়ে গালিগালাজ করেন। তাদের আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কলেজের অধ্যক্ষ আবু তালেব মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তালেব মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি সেখান গিয়ে তাদের ক্লাস থেকে বের করে দিই। শিক্ষকরা বললেন ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর হেরফের হওয়ায় কিছু ছেলে এসেছিল। তেমন কিছু হয়নি।’
এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘শিক্ষকদের গালিগালাজ ও কোনো ভাঙচুর করেছে কি না, জানি না। তবে একটু বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। শিক্ষকদের কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেননি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে রাশেদ খান বলেন, ‘প্রিন্সিপ্যাল স্যার তো সেখানে ছিলেন। তার সামনে কথা হয়েছে। তেমন কিছু হয়নি। আপনি এসে প্রিন্সিপ্যাল স্যারের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন। আমি ছাত্রলীগের কর্মী নয়, রিলেটিভ এক ছোট ভাইয়ের জন্য সুপারিশ করেছিলাম।’
