সংস্কৃতিকর্মীদের সমাবেশে বক্তারা

সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকেই কেন পদক্ষেপ নিতে হয়

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:০১ এএম

সামাজিক অনাচার, নৈরাজ্য, মাদক, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার এবং সামাজিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ অভিযান চলমান রাখার প্রত্যয় নিয়ে দেশব্যাপী সমাবেশ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তারা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি, নেপথ্যে এসব অপকর্মের মদদদাতাদেরও  বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সুস্থ রাজনীতির চর্চা এখন ব্যবসায়ী এবং অসৎ ব্যক্তিদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সাম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার বলেন, ঢাকা শহরের খেলার ক্লাবগুলো ক্যাসিনোর দখলে চলে গেছে। জুয়ার আসরে পরিণত হয়েছে। যুব সমাজের জন্য এটি ভয়ংকর ব্যাপার। চলমান অভিযান নিয়েও নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা বলতে চাই বাংলাদেশের মানুষ এই দুর্নীতিবাজ, জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে সোচ্চার আছে, সংস্কৃতিকর্মীরা সোচ্চার আছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই অভিযান যেন অব্যাহত থাকে।

আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, যেখানে যাই সেখানে গেলেই দেখা যায় মাদক। যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে এই অনাচার থামাতে হবে। এভাবে একটি সমাজ চলতে পারে না। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে অভিযান তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা এই অভিযানের সঙ্গে আছি।

একযোগে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, পথনাটক পরিষদ, চারুশিল্পী সংসদ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ সংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, জাতীয় কবিতা পরিষদ, পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী, পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর, নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক, থিয়েটার ডিরেক্টরস ইউনিটির আহ্বায়ক অনন্ত হিরা, চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি কামাল পাশা চৌধুরী, নাট্যজন কামাল বায়েজীদ, ঝুনা চৌধুরী, ড. মোহাম্মদ বারী, বাচিকশিল্পী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী বলেন, এভাবে সমাজে অনাচারের স্তূপ তৈরি হবে আর সংস্কতিকর্মীরা অনাচারের আবর্জনা পরিষ্কার করেই যাবে এটা তো হতে পাওে না। সবক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাহলে স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় রাজনীতিবিদরা কী করেন? আমরা সংস্কৃতিকর্মীরা এই ধরনের অভিযানকে সাধুবাদ জানাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত