কাশ্মীরে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু গত সপ্তাহে সরেজমিনে কাশ্মীরে গিয়ে সরকারি দাবির বিপরীত চিত্র দেখতে পান নারী অ্যাকটিভিস্টদের একটি দল।
দ্য হিন্দু জানায়, গত ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে নিয়ে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার ৪৫ দিনের মাথায় নারীদের দলটি উপত্যকায় যান।
দিল্লিতে ফিরে এসে তারা জানান, কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন থেকে বাদ যাচ্ছে না কিশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক কেউই।
কাশ্মীরে যাওয়া ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমটিতে ছিলেন বাম সমর্থিত ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান উইমেন এবং প্রগতিশীল মহিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের সঙ্গে ছিলেন মুসলিম উইমেন্স ফোরামের সদস্য প্রাক্তন প্ল্যানিং কমিশন সদস্য সাইয়েদা হামিদও।
সরেজমিনে ঘুরে এসে তারা জানান, কাশ্মীরে কিশোর ও তরুণদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীরা। তাদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে বিপুল অর্থ ডিপোজিট দিতে বাধ্যও করা হচ্ছে পরিবারকে।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমটিকে এক নারী বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের যুবক ছেলেদের তুলে নিয়ে যায়। বাবারা যখন ছেলেদের উদ্ধার করতে যায় তখন তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৬০ হাজার রুপি পর্যন্ত জামানত রাখতে হচ্ছে।”
মঙ্গলবারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যাকটিভিস্টরা বলেন, “বান্দিপোড়া এলাকায় আমরা একজন কিশোরীকে দেখি। সামনে স্কুল খুললে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। এ জন্য রাতে আলো জ্বালিয়ে পড়ছিল। কিন্তু কারফিউ লঙ্ঘন করার অভিযোগে সেনাসদস্যরা দেয়াল টপকে ঘরে ঢুকে তার বাবা এবং ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে যায়।”
তারা জানান, ১৪-১৫ বছর বয়সী কিশোরদেরও ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেককে অবরুদ্ধ সময়ের ৪৫ দিন ধরেই তাদের আটকে রাখা হয়েছে। সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে তরুণীদের হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মানুষ জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারছে না। গাড়ি চলাচলে কড়াকড়িতে রোগীদের কাছেও পৌঁছতে পারছে না চিকিৎসকেরা।
এমন পরিস্থিতিতে সব এফআইআর বাতিল করে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমটি। এ ছাড়া অঞ্চলটি থেকে সেনা ও আধা সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার অভিযোগও তদন্তের দাবি জানান তারা।
