বিজ্ঞানভীতি দূর করাই যাদের লক্ষ্য

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৩৫ পিএম

আভিধানিকভাবে বিজ্ঞান শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিশেষ জ্ঞান’। দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছেই বিজ্ঞান যেন এক ভয়ংকর বিষয়ের নাম। মনস্তাত্ত্বিক এই ভীতি থেকে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শেখায় অনেকটা অমনোযোগী হয়ে পড়ে। তবে বিজ্ঞান যে ভীতিকর বা অধরা কোনো বিষয় নয় সেই বার্তা শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে ‘কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাব’। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে সংগঠনটি। বর্তমানে এই ক্লাবের সদস্যসংখ্যা ৯০০-এরও বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালের শুরুর দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিজ্ঞানপ্রেমী শিক্ষার্থীর হাত ধরে এই সংগঠনের পথচলা শুরু। প্রথম দিকে কীভাবে অনেক শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে করা যায়, কীভাবে বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যায়, কীভাবে স্কুল-কলেজের ছাত্রদের মাঝে বিজ্ঞানভীতি দূর করা যায়Ñ এ নিয়েই চলত আড্ডার আসর। তবে ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করলেও কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। যাত্রা শুরুর দুই বছর পর ২০১৭ সালের ১২ জুলাই সংগঠনটিকে স্বীকৃতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়েও রয়েছে সংগঠনটির অন্তর্ভুক্তি। বিজ্ঞান আড্ডা, স্কুলে স্কুলে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ, পাঠচক্র, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি চার বছর পেরিয়ে পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করেছে। ১ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলেও অতিথিরা সময় দিতে না পারায় গতকাল সোমবার আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ, কেক কাটাসহ নানা আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছেন সংগঠনটির সদস্যরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী।

সম্প্রতি দেশের চতুর্থ মানবাকৃতির রোবট তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ক্লাবের চার তরুণ। রোবটটির নাম দেওয়া হয় সিনা। এটি বানাতে খরচ পড়ে মাত্র ৩৭ হাজার টাকা। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) অর্থায়নে রোবটটি তৈরি করতে কাজ করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সঞ্জিত ম-ল, একই বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাঈদুর রহমান, আইসিটি ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জুয়েল নাথ ও নিয়াজ আল মাসুম।

ক্লাবের সদস্যরা দেশ রূপান্তরকে জানান, এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী তিনটি বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ক্লাবের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া প্রোজেক্টরে দেশি-বিদেশি পাঁচটি চলচ্চিত্র দেখানো হয়েছে, যা ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত।

অন্যদিকে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৭ প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের দুটি দলের একটি দ্বিতীয় ও অন্যটি দশম স্থান অর্জন করে। একই বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সায়েন্স ফেস্টিভ্যালের পোস্টার প্রেজেন্টেশনে তৃতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করে সংগঠনটি। এসব বিজ্ঞানভিত্তিক কাজের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও ক্যাম্পাস পরিষ্কারের মতো সামাজিক কাজও করে আসছেন সংগঠনের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তন্ময় কুমার সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সংগঠন পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করেছে। কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাব, ত্যাগ আর ভালোবাসা দিয়ে গড়া একটি বাগান। সবার সহযোগিতায় আমরা চলতি বছর রোবট তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে আরও চমক নিয়ে আসবে সদস্যরা।’

তবে ক্লাবটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্থ ও কোনো কক্ষ বরাদ্দ নেই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ক্লাবের সভাপতি জোহায়ের তানভীর রাফি। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথম দিকে নিজেদের পকেটের টাকায় সংগঠন চালিয়েছে সদস্যরা। এখনো শিক্ষকদের সহায়তা এবং নিজেদের অর্থে সংগঠন চলছে। প্রশাসন থেকে কোনো বরাদ্দ নেই। এমনকি কোথাও বসে কাজ করব এমন কোনো রুমও নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত