বিল পরিশোধের পর স্বজনেরা জানল রোগীর মৃত্যুর খবর

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:২৬ পিএম

ভুল চিকিৎসা ও ক্লিনিকের অবহেলায় মিলি বেগম (২৮) নামে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের আসবাবপত্র ও দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে স্বজনরা শান্ত হয়।

নিহত মিলি বেগম ফতুল্লা থানার শিবুমার্কেট পশ্চিম লামাপাড়া এলাকার মো. শাহ আলমের স্ত্রী।

শাহ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মিলির কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড মাথা ব্যথার জন্য মেডিসিন ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহের আলীকে দেখাই। তার পরামর্শ অনুযায়ী রাত পৌনে ১১টায় কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করি। ব্যথা না কমায় সোমবার ৩টার দিকে আবারও ডাক্তার ডাকতে গেলে হাসপাতালের লোকজন আবারও ওষুধ আনতে পাঠায়। ওষুধ নিয়ে আসার আগেই আমার স্ত্রীকে হাসপাতালের বাইরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে ফেলে। আর বলে দ্রুত হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন আপনার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। বিল পরিশোধ করার পর হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানায় আমার স্ত্রী মারা গেছে।

তিনি বলেন, ওই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও  টাকার জন্য হাসপাতালের লোকজন আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে। হাসপাতাল থেকে সকালে ঢাকা নিতে দিলে আমার স্ত্রী মরে না। ওরা টাকার জন্য আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলছে। আমি এর বিচার চাই।

হাসপাতালের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আবু বক্কর বলেন, ডা. জাহের আলীর নির্দেশে রোগীকে ভর্তি করা হয়। তবে তিনি এখানে আসেন নাই। পরে তার পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে স্যালাইন সহ অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয়। ধারণা করা যাচ্ছে ব্রেন স্ট্রোক করার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডাক্তার জাহেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন করা হলে সহকারী সাইফুল ফোন রিসিভ করে বলেন স্যার রোগী দেখছেন। এরপর লাইনটি কেটে দেন সহকারী। আর ফোন ধরেননি।

হাসপাতালের স্টাফরা জানায়, ক্লিনিকের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফয়সালের তত্ত্বাবধানে মিলির চিকিৎসা চলছিল। তবে তার মৃত্যুর পর ডা. ফয়সালকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মিজানুর রহমান মিজান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইনচার্জ মো. আসলাম হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ স্বজনরা বুঝে নিয়ে গেছে। কেউ এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত