‘আপনি প্রার্থনা করবেন, তারা পেটাবে। পড়াশোনা করবেন, তাও পেটাবে। এক কথায় দোজখবাস। পালানোর পথ বন্ধে হাত-পায়ে শেকল দেওয়া হতো।’ কথাগুলো বলছিলেন কিশোর আব্দুল্লাহ হামজা, যার শরীরে নির্যাতনের অসংখ্য ক্ষত।
সম্প্রতি উত্তর নাইজেরিয়ার কান্দুনার একটি বেসরকারি ইসলামিক স্কুলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আব্দুল্লাহ হামজার মতো শিশু-কিশোরসহ ৫০০ জনকে উদ্ধার করে। সরকারি সুবিধা না থাকায় সেখানে এমন অসংখ্য স্কুল (আলমাজিরি) গড়ে উঠেছে। রাজ্য সরকারের ধারণা, এসব স্কুলে ৯০ লাখের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে।
তাদের মধ্যে শুধু ‘আহমাদ বিন হামবাল সেন্টার ফর ইসলামিক টিচিং’-এর ভয়াবহ নির্যাতন সামনে আসায় সবাই হতবাক। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ বুহারি পর্যন্ত আঁতকে উঠেছেন। স্কুলটিকে ‘নির্যাতন ঘর’ ও ‘মানব দাসত্বের কারখানা’ অ্যাখ্যা দিয়ে নিজে একজন মুসলিম হিসেবে লজ্জিত বলেছেন। মুহাম্মদ বুহারি বলেন, ‘স্কুলের মুসলিম কর্র্তৃপক্ষ গোটা জাতিকে লজ্জায় ফেলেছে। কোরানিক স্কুলে এমন ঘটনা সত্যিই ভয়ঙ্কর। ইসলাম আমাদের এভাবে শিশু নির্যাতন অনুমোদন দেয়নি।’ তবে এ জাতীয় স্কুল বন্ধ করে বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রবর্তনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট গত মঙ্গলবার দেওয়া তার বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করেননি।
নিজের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে আরেক কিশোর ইসা ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার হাত বেঁধে সিলিংয়ে ঝোলানো হয়েছিল। শরীরের সব অংশেই আঘাত করেছে। ঘুমিয়ে পড়লেও তারা বেত দিয়ে পেটাত জাগানোর জন্য। চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায়ও শুধু সাদা ভাত দেওয়া হতো।’
কান্দুয়ার স্কুলটি একই সঙ্গে তরুণ বা কিশোরদের আচরণগত সমস্যার সংশোধনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পুলিশ জানায়, উদ্ধার অনেককে শেকল দিয়ে বাঁধা পাওয়া যায়। অনেকে জানান, তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে।
শহরের ওই এলাকা দারিদ্র্যপীড়িত হওয়ায় অনেকেই সন্তানকে স্কুলে দিতে পারেন না। ফলে বেসরকারিভাবে গজিয়ে ওঠা এসব স্কুলে সরকারের নজরদারি নেই। কিন্তু সামর্থ্যবানরা বেসরকারি স্কুলে দিয়েও এখন নিরাপত্তা পাচ্ছেন না।
ঘটনা জানার পর অভিভাবকরা সেখানে ভিড় করেন। তারা আক্ষেপ করে বলেন, এমন অবস্থা জানলে তারা কখনো সন্তানকে পড়ালেখার জন্য পাঠাতেন না।
