দুদলের সংঘর্ষে একদলের প্রধান নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বুড্ডা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন একপক্ষের পুরুষ সদস্যরা। স্কুলে যেতে পারছে না আসামিপক্ষের শিক্ষার্থীরা।
বুড্ডা গ্রামের হত্যা মামলার আসামি ফরিদুল ইসলাম মৃধার মেয়ে (১৩) পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। পড়ালেখায় বেশ ভালো। কদিন পরেই তার বার্ষিক পরীক্ষা। কিন্তু গত ১৭ দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছে না সে। বাদীপক্ষের লোকজনদের ভয়ে স্কুল যাওয়া বন্ধ তার।
তার মতো আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছে না ওই হত্যাকাÐের কারণে। অভিযোগ উঠেছে, রাতের আঁধারে দল বেঁধে আসামিপক্ষের লোকজনদের বাড়িতে হানা দিয়ে নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করছে বাদীপক্ষের লোকজন।
জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ নানা বিষয় নিয়ে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের বাসিন্দা শামছু মিয়া ও ইউপি সদস্য অলি আহাদ মৃধার বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে শামছু মিয়া (৬৫) মারা যান। এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
এ হত্যাকাÐের ঘটনায় নিহত শামছু মিয়ার ছেলে হাসেন মিয়া বাদী হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২৯ জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন আসামিরা। এলাকা ছেড়েছেন তাদের পক্ষের অন্য লোকজনও।
ওই হত্যাকাÐের পর থেকেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বুড্ডা গ্রামে। আসামিপক্ষ গ্রাম ছেড়ে পালানোয় বাদীপক্ষের এখন এলাকায় একক আধিপত্য। রাতের বেলায় নিয়মিত হানায় ভুগছেন নারীরা। ঘর থেকে ধান-চাল যা ছিল সব নিয়ে গেছে। ফরিদুল ইসলাম মৃধার স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, ‘পুরুষরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় বাদীপক্ষ আমাদের বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। রাতের বেলা বাড়িতে এসে আমাদের অত্যাচার করে। হুমকি দিয়েছে মৃধা গোষ্ঠীর একটা বাচ্চা পেলেও কুচি-কুচি করে কেটে ফেলে দেবে। এই ভয়ে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। আমরা এখন জীবনের নিরাপত্তা চাই, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘটনার পর বেশ কিছুদিন পুলিশ মোতায়েন ছিল। উভয়পক্ষের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
