বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ বাড়লেও বেশির ভাগ ভুক্তভোগী অভিযোগ না করায় প্রতিকার পাচ্ছেন না। আবার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ কোথায় অভিযোগ করতে হবে তা জানেন না। সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিসিএ) এক জরিপে দেখিয়েছে, সাইবার অপরাধের শিকার হলেও প্রায় ৮০ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন না। ফলে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লেও নিরাপত্তা বাড়ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট পরিসরে ১৩৪ জনের ওপর জরিপটি চালানো হলেও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ ইন্টারনেটের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লক, পাসওয়ার্ডসহ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিসিএল) তথ্যে, দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। এর মধ্যে ৮ কোটি ৪৭ লাখ মোবাইল ফোন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। সিসিএ বলছে, বাংলাদেশে ১১ ধাপে সাইবার অপরাধ হচ্ছে। এর মধ্যে ফোনে বার্তা পাঠিয়ে হুমকি, কপিরাইট আইন লঙ্ঘন, পণ্য বিক্রিতে প্রতারণা ও অনলাইনে কাজ করিয়ে নেওয়ার কথা বলে প্রতারণা একবারেই নতুন। প্রতিষ্ঠানের তথ্যে, ২০১৮ সালে ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ভুক্তভোগীদের ২৩ শতাংশই বিষয়টি গোপন রেখেছেন। ২২ দশমিক ৭ শতাংশ জানেনই না কোথায় অভিযোগ করতে হবে। আর মাত্র ১৯ দশমিক ২ শতাংশ অভিযোগ করে আশানুরূপ প্রতিকার পেয়েছেন।
সিসিএ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ছোট পরিসরে জরিপ করলেও যেসব তথ্য পেয়েছি, তা উদ্বেগজনক। এখনই আমাদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’
থিংক ট্যাংক ফর সিকিউর ডিজিটাল বাংলাদেশের আহŸায়ক সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, অপরাধীরা তাদের ধরন পরিবর্তন করে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। পরে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মাহমুদা আফরোজ লাকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাইবার অপরাধীরা আমাদের অজান্তেই তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। ফেইসবুক ব্যবহারে সবার সচেতন হওয়া দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশ সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মামলা না করে বিষয়টি চেপে যেতে চান। এ জন্য অপরাধীকে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।’
