তপু বর্মণকে যেন মনে করিয়ে দিলেন ইয়াসিন খান। গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এই ডিফেন্ডার দু’ম্যাচে দু’গোল করে নিজের স্কোরিং সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছিলেন। ইনজুরির কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই মাঠের বাইরে দেশসেরা এই ডিফেন্ডার। রক্ষণে তাই তার শূন্যস্থান পূরণ করতে হচ্ছে ইয়াসিন খানকে। রক্ষণটা যেভাবে সামলাচ্ছেন, ঠিক সেভাবেই জোড়া গোল করে দলকে ভুটানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে দারুণ এক জয় এনে দিয়েছেন এই ডিফেন্ডার। সুবাদে বিশ^কাপ বাছাইপর্বে শক্তিশালী কাতারের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে ভুটানকে নিমন্ত্রণ করে আনার সিদ্ধান্তটা যথার্থই হলো বাংলাদেশের। ২৯ সেপ্টেম্বর ৪-১ গোলে জয়ের পর কালকেও বাংলাদেশ পেয়েছে অনায়াস জয়।
র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা ভুটানকে (১৮৫) হারিয়ে র্যাংকিংয়ে উন্নতি ছিল একটি লক্ষ্য। সেটি পূরণ হয়েছে। তবে বাংলাদেশের এ দুটি ম্যাচ খেলার মূল কারণ ছিল ১০ অক্টোবর ঢাকাতেই প্রবল প্রতিপক্ষ কাতারের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়া। বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে এই ম্যাচে ৭টি পরিবর্তন এনে চেষ্টা করেছেন দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়কেই পরখ করে নিতে। সেই সুযোগটা অবশ্য এই ইংলিশম্যানকে করে দিয়েছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। প্রাধান্য বিস্তার করে আক্রমণের সুনামি বইয়ে দিয়েছেন লাল-সবুজরা। প্রথমার্ধের ২৩ মিনিটে ইয়াসিনের লক্ষ্যভেদী হেড প্রথমে এগিয়ে নেয় বাংলাদেশকে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৬৬ মিনিটে এই দীর্ঘকায় ডিফেন্ডারের আরেকটি হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই একটি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন বাংলাদেশ কোচ। পেশিতে টান পড়ায় ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরাকে মাঠ ছাড়তে হয়। তার জায়গায় দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান ডিফেন্ডার রায়হান হাসান। সুযোগ পেয়েই ইয়াসিনকে দিয়ে গোল করান নিজের তূণে থাকা অস্ত্র লম্বা থ্রোইনের ব্যবহারে। মাঠের বাঁ প্রান্ত থেকে তার লম্বা থ্রোইনে নিখুঁত হেডে ইয়াসিন পান ভুটানের জালের দেখা। আদতে ভুটানের অরক্ষিত রক্ষণভাগের ফাঁক গলে লাফিয়ে সাফল্য পান ইয়াসিন। ম্যাচের ৩০ মিনিটে আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবনের দারুণ প্রচেষ্টা ভেস্তে গেছে অল্পের জন্য। রবিউল হাসানের ক্রসে শূন্যে ভেসে জীবন যে হেড নিয়েছিলেন তা অল্পের জন্য ঠিকানা খুঁজে পায়নি। পরের মুহূর্তে দীর্ঘদিন পর গ্লাভস হাতে নামা বাংলাদেশ গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল ভুটানকে হতাশ করেছেন দারুণ এক সেভে। ভুটানের মিডফিল্ডার দাওয়া শেরিং গোলমুখের জটলা থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন। কিন্তু সোহেল সেটা আয়ত্তে নিয়েছেন।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কোচ আরও ছটি পরিবর্তন আনেন একাদশে। একে একে তিনি পরখ করে দেখেন আরিফুর রহমান, মামুনুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, জুয়েল রানা, মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং ইয়াসিন আরাফাতকে। ফ্রেশ লেগদের আগমণে আক্রমণের ধার বেড়েছে অনেকটাই। ৫৭ মিনিটে রায়হানের আরেকটি ভয়ংকর থ্রোইনে ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন জীবন। কিন্তু তার প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ভুটান ডিফেন্ডার লুংটক দাওয়া। স্ট্রাইকার সাদউদ্দিনের জায়গায় খেলতে নেমেই নিজের ক্যারিশমা দেখিয়েছিলেন ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান। মাঝমাঠ থেকে একটি বল নিয়ে ভুটানের তিন ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে যে শট তিনি নিলেন তা ঠেকিয়ে দেন ভুটান কিপার নাওয়াং জাম্ফেল। অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াও গোল পেতে পারতেন এর কিছুক্ষণ বাদে। বক্সের ২০ গজ বাইরে থেকে তার জোরালো শট ফিস্ট করে রুখে দেন ভুটান কিপার। ৬৬ মিনিটে ইয়াসিন দ্বিতীয় গোল করেন। ডানপ্রান্ত থেকে ইব্রাহিমের ক্রসে গোলমুখ থেকে তার হেড সরাসরি জালের দেখা পায়। ৮৪ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ইব্রাহিমের বাঁ পায়ের শট ভুটানের কিপার ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করলে আর ব্যবধান বাড়ানো হয়নি বাংলাদেশের।
