অভিশংসন নিয়ে মুখোমুখি ট্রাম্প-ডেমোক্র্যাটরা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৫৩ পিএম

ডেমোক্র্যাটরা অভিশংসন প্রক্রিয়া তদন্তের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতেই মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

দ্য হিন্দু জানায়, ট্রাম্পের ফোনালাপ সংক্রান্ত নথি চেয়ে শুক্রবার প্রথমবারের মতো সংশ্লিষ্ট হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের তলব করে ডেমোক্র্যাটরা।

নথি তলবের মধ্য দিয়ে সপ্তাহ ধরে চলমান নির্বাহী বিভাগ এবং কংগ্রেসের মধ্যে সাংবিধানিক লড়াই নতুন মাত্রায় পৌঁছাল। আরও সাক্ষী, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথি আসতে থাকায় রাজনৈতিক সংকট তীব্রতর হচ্ছে।

প্রতিনিধি পরিষদের অভিশংসন তদন্তের বিষয়ে কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ডেমোক্র্যাটদের পর্যাপ্ত ভোট আছে।

শেষ পর্যন্ত তারা অনুতপ্ত হবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণী করে ট্রাম্প বলেন, ‘ভোটে তারা কঠিন মাশুল দিতে যাচ্ছেন বলে আমি প্রকৃত অর্থে বিশ্বাস করি।’

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প ‘একগুঁয়েমি, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং তথ্য গোপনের’ পথে ক্রম অগ্রসর হচ্ছেন। প্রতিনিধি পরিষদের তলব অগ্রাহ্য করা হলে সেটি ‘প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির প্রমাণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সেটি হবে সম্ভবত মারাত্মক অপরাধ।

অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর আগে প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটির জন্য চিঠি পাঠাতে পারে হোয়াইট হাউস। তবে স্পিকার ন্যানসি পেলোসি বলছেন, নিয়ম মেনেই সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে প্রতিনিধি পরিষদ।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বিতর্কিত ফোনালাপ নিয়ে অভিশংসনের মুখে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এনিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আগে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী জো বাইডেনকে কালিমালিপ্ত করতে ট্রাম্প বিদেশি সাহায্য চেয়েছেন এবং এক্ষেত্রে ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তাকে তিনি দর-কষাকষির হাতিয়ার করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপের কয়েক দিন আগে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা আটকে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে চাপ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি।

জো বাইডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১৬ সালে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর ভিক্টর শোকিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে তার ভূমিকা ছিল।

শোকিনের অফিস বুরিস্মা নামের একটি গ্যাস কোম্পানির অনিয়ম তদন্ত শুরু করেছিলেন, যে কোম্পানির বোর্ড সদস্য ছিলেন বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত