মাদারীপুরের সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি পশ্চিম ঘটমাঝি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের আদেশে রাতে বিশেষ ক্লাসের নামে রমরমা কোচিং বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন সকালে ১ ঘণ্টার একটি বিশেষ ক্লাস ও রাতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ৪ ঘণ্টার বিশেষ ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্য। সরকারি স্কুলের দরজা- জানালা বন্ধ করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ কোচিং ক্লাস। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি জেনেও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেননি।
রাতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির পর্যন্ত ১৩৫ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বাইরে থেকে দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে কোচিং ক্লাস চালানো হচ্ছে।
জানা যায়, জানুয়ারি থেকে শুরু করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলে এই কোচিং বাণিজ্য। ৫ম শ্রেণিসহ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় ছাত্রকেও দেখা গেছে বিশেষ ক্লাসে। রাতের কোচিং বাবদ প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। আর সকালের বিশেষ ক্লাস নেয়া হয়। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের ২টি বিষয়ের কোচিং করানো হয়। যার বাবদ নেয়া হয় ২০০-৪০০ টাকা।
বিদ্যালয়ের বাইরে কয়েকজন অভিভাবককে সন্ধ্যা থেকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা বলেন, আমরা কি করব স্কুল থেকে বাধ্যতামূলক করেছে তাই করাতে হয়। সেই সকালে আসে বিকেলে একটু বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেই আবার সন্ধ্যায় চলে আসে, আর ক্লাস হয় প্রায় রাত ১০টা পর্যন্ত। বাড়িতে পড়াশোনা করার কোনো সুযোগই পায় না ছেলেমেয়েরা। আর আমরাও সব সময় টেনশনে থাকি রাতে যদি কোনো বিপদ হয়ে যায়।
উত্তর ঝিকরহাটি পশ্চিম ঘটমাঝি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মজিবর রহমান জানান, আমি তাদের কাছ থেকে কোন টাকা নেই না। ওদের পড়াশোনায় ভালো করার জন্য আমি রাতে কয়েকজনের ক্লাস নিয়ে থাকি। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকার অনুমতি রয়েছে।
এ ব্যাপারে উত্তর ঝিকরহাটি পশ্চিম ঘটমাঝি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা সাফিয়া আক্তার বলেন, আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের আন-অফিশিয়াল অনুমতিতেই এ ব্যবস্থা নিয়েছি। রাতে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীদের কোনো সমস্যা হলে তার দায় কে নিবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটার দায় আমরা নেব না। এটার দায় তার পরিবার নিবে, তাদের অনুরোধে আমরা এক শিক্ষককে দিয়ে রাতে পড়াই। আর এখানে শুধু ৫ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ে, তারা যাতে পিএসি পরীক্ষায় ভালো করতে পারে।
সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুপা জানান, আমি বিষয়টি জানি না, ছাত্র- ছাত্রীদের ভালো করানোর জন্য মনে হচ্ছে বিষয়টি ভালো। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলেছি, যদি অভিভাবকরা চায় তাহলে করাতে পারে, তবে অবশ্যই স্কুলে না। আমার কাছে এই বিষয় কোনো অভিভাবক অভিযোগ করেননি।
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, আমি বিষয়টি জানতাম না এখন জানলাম, যদি এ রকম হয় আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। আর রাতে ক্লাস নেয়ার কোনো নিয়ম নেই। বিশেষ ক্লাস নিতে হলে স্কুলের ক্লাস শুরু হওয়ার আগে অথবা তার পরে নেয়া যেতে পারে। যদি এ রকম কেউ করে তাকে সাবধান করে দেয়া হবে।
