ঘুষ খাওয়া ‘সরকারি দায়িত্বের’ মধ্যে পড়ে কিনা প্রশ্ন করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করে, দুদকও একই নীতি বাস্তবায়ন করছে।
সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে একজন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও অফিস সহকারীকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এদিন সকালে মো. আনিসুর রহমান নামে ওই কর্মকর্তা ও একই অফিসের সহকারী মো. জুলফিকারকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরের একটি বিশেষ দল। গত ১ অক্টোবর সরকারি কর্মচারী আইন কার্যকর হয়েছে। আইনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে সরকারের পূর্ব অনুমতির বিষয়ে বিধান রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় দুদক দুই সরকারি কর্মচারীকে কীভাবে গ্রেপ্তার করল, এমন প্রশ্ন ছিল দুদক চেয়ারম্যানের কাছে।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমার যতটা মনে আছে, সরকারি কর্মচারী আইনে বলা হয়েছে—‘সরকারি দায়িত্ব’ পালনকালে যদি কোনও ফৌজদারি মামলা হয়, তবে চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে সরকারের অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার করা যাবে না। এ সময় ইকবাল মাহমুদ পাল্টা প্রশ্ন করেন, ঘুষ আদান-প্রদান কি ‘সরকারি দায়িত্ব’? ঘুষ খাওয়া কি ‘সরকারি দায়িত্বের’ মধ্যে পড়ে?
তিনি বলেন, দুদক আইনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ঘুষ খাওয়া ‘সরকারি দায়িত্ব’ নয়। বর্তমান সরকার যেভাবে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করছে, দুদক ঠিক একই নীতি বাস্তবায়ন করছে। এখানে ভুল বোঝাবুঝির কোনও অবকাশ নেই। জাতীয় সংসদে যেসব আইন পাস হয়, তার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রেখেই দায়িত্ব পালন করছে দুদক।
