‘মুম্বাইয়ের সবুজ ফুসফুস’ খ্যাত অ্যারে কলোনি বাঁচানোর সিদ্ধান্তে অবশেষে টনক নড়ল ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের। একসময় যে আদালতই কিনা গাছ কাটা বন্ধের আবেদন খারিজ করেছিল, সেই আদালতই আবার গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিল। পরিবেশকর্মী ও শিক্ষার্থীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে শেষ পর্যন্ত এই নির্দেশ দেয় আদালত। বিবিসির খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।
পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সপ্তাহব্যাপী সংঘর্ষের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের একটি দল প্রধান বিচারপতিকে গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে একটি চিঠি পাঠায়। সেখানে অ্যারে কলোনিকে বাঁচাতে বিচারপতির জোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার দুজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ একটি বেঞ্চ শুনানি শেষে এই রায় দেয়। ওই রায়ে মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারকে গাছ কাটা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয় আদালত।
শুধু তা-ই নয়, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত রাজ্য সরকারকে ওই এলাকায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার গাছ কাটা বন্ধ রাখার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীরা রাস্তায় নেমেছিলেন। কলোনিতে দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও লিপ্ত হয়েছিলেন তারা। এ ঘটনায় ৫০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এমনকি যেকোনো ধরনের জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বলিউডের তারকারা এ ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকুরও প্রশাসনকে একহাত নিয়েছিলেন।
মুম্বাই শহরের ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ঘন বণাঞ্চলসমৃদ্ধ এই অ্যারে কলোনি। মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত মিঠি নদী। অপার সবুজের সমারোহের কারণে অঞ্চলটিকে ‘মুম্বাইয়ের সবুজ ফুসফুস’ নামে অভিহিত করা হয়। সেখানে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য প্রায় ২ হাজার ৭০০টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয় মুম্বাই সরকার। এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক সমাজকর্মী। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এরপরই গাছ কাটার কাজ শুরু করে দেয় মেট্রোরেল কর্র্তৃপক্ষ।
