লা লিগায় রবিবার রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনা ৪-০ গোলে হারিয়েছে সেভিয়াকে। মৌসুমের প্রথম গোল পেয়েছেন লিওনেল মেসি। বাইসাইকেল কিকে দারুণ এক গোল করেন লুইস সুয়ারেজও। দাপুটে জয়ের দিনে কালো দাগ লেগেছে বার্সার গায়ে। দুটি লাল কার্ড দেখেছে তারা। ম্যাচের ৮৭ ও ৮৮ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রোনাল্ড আরাউ ও উসমান দেম্বেলে। এই জয়ে ৮ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এরনেস্তো ভালভার্দের দল। শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান ২। একই দিন আতলেতিকো মাদ্রিদ গোলশূন্য ড্র করেছে রিয়াল ভায়াদোলিদের বিপক্ষে। ড্র করে পয়েন্ট হারানোয় ৮ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেছে তারা।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন লুইস সুয়ারেজ। নেলসন সেমেদোর ক্রস থেকে ডি-বক্সের মাঝামাঝি স্থান থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন উরুগুয়ে তারকা। বক্সের ভেতরে বাইসাইকেল কিকে দারুণ গোলটি করেন তিনি। এর পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্তুরো ভিদাল। ৩৫ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ান দেম্বেলে। ৩-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় কাতালানরা। ৭৮ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায় বার্সেলোনা। সেভিয়ার রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে গোল করেন মেসি। ইনজুরি থেকে ফেরার পর মৌসুমের প্রথম গোলে স্বস্তি ফিরেছে মেসি সমর্থকদের মাঝে।
ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের লিগে এটি ছিল মেসির ৪২০তম গোল। শুধু স্প্যানিশ লিগেই খেলেছেন আর্জেন্টিনা তারকা। তবে রবিবারের গোলে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলেছেন। ইউরোপের শীর্ষ তিন লিগে খেলেছেন রোনালদো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লিগ ও ইতালিয়ান লিগ মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা এখন পর্যন্ত ৪১৯টি।
জয় দিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। মৌসুম শুরুর বাজে সময়টা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে তারা। ম্যাচ শেষে ভিদাল বলেন, ‘পুরোটা সময় আমরা তাদের (সেভিয়া) চেয়ে এগিয়ে ছিলাম। সব সময় তাদেরকে চাপে রেখেছি। আমরা যোগ্য বিজয়ী। আমরা এমন এক দলের সঙ্গে খেলেছি যাদের উইংস অনেক ভালো। কিন্তু সেসব জায়গায় আমরা তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছি।’
তবে জয় পেলেও শেষটা ভালো হয়নি বার্সেলোনার। ম্যাচে সবচেয়ে হতভাগ্য বলা চলে রোনাল্ডকে। নিজের অভিষিক্ত ম্যাচে ১৫ মিনিটও খেলা হয়নি এই উরুগুইয়ান তরুণের। সেভিয়ার হার্নান্দেজকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তরুণ এই ডিফেন্ডার। রেফারির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ডেম্বেলে দেখেন ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। এরপর তর্কে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন বার্সেলোনার আরেক খেলোয়াড় বুসকেটস।
