জার্মানির প্রথমার্ধ আর্জেন্টিনার দ্বিতীয়

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ১২:২৪ এএম

আর্জেন্টিনা-জার্মানি লড়াই সব সময়ই উত্তেজনা-রোমাঞ্চ নিয়ে আসে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকেই এ লড়াই অন্য মাত্রা ছড়ায়। বুধবার রাতে প্রীতি ম্যাচের মোড়কে সেই রকম এক ম্যাচেই মুখোমুখি হলো জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে দারুণ লড়াইয়ের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। প্রথমার্ধে তরুণ জার্মানি ২ গোলে এগিয়ে যায়। পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল ফিরিয়ে সমতায় ম্যাচ শেষ করে। নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ম্যাচেও ছিলেন না লিওনেল মেসি। 

দু’গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু এই জার্মান দলটি একদমই তরুণ। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম শিরোপাজয়ী দলের একজন ফুটবলারকেও রাখেননি জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। এছাড়া নিয়মিত একাদশে খেলা ১২ ফুটবলারকেও বাইরে রাখা হয় ইনজুরি ও বিশ্রামের কারণে। নতুন শুরুর চেষ্টায় তাই একদম নতুন চেহারার এক দল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দাঁড় করান লো। তাতে অভিষেক হয় চার তরুণের। এই দলটিই মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে ২ গোলে এগিয়ে যায়। প্রথম গোল ১৫ মিনিটে, চলতি সময়ে দারুণ ধারাবাহিক জার্মান তারকা সার্জ নাব্রির কৃতিত্বে। ২২ মিনিটে লেভারকুসেনের কাই হাভার্টজ ব্যবধান করেন দ্বিগুণ।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসতে থাকা আর্জেন্টিনা তাদের শক্তি দেখায়। মেসিকে ছাড়াই যে তাদের এগিয়ে চলার রসদ আছে তা দেখাল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৬৬ মিনিটে জার্মান ক্লাব লেভারকুসেনে খেলা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লুকাস অ্যালারিওর গোলে ব্যবধান ২-১-এ নামিয়ে আনে আর্জেন্টিনা। আর ম্যাচ শেষের ৫ মিনিট আগে সমতাসূচক গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। সেভিয়ার হয়ে খেলা অভিষিক্ত লুকাস ওকাম্পোসের গোলে সমতা আনে ম্যাচে। এই গোলে অ্যাসিস্ট ছিল অ্যালারিওর। দুজনই বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন।

ম্যাচে জার্মানির মতো দল নিয়ে পরীক্ষা করেছে আর্জেন্টিনাও। মেসির সঙ্গে সার্জিও আগুয়েরো, ডি মারিয়ার মতো তারকারা দলে ছিলেন না। এখানেই ভবিষ্যৎ দল গোছানোর লক্ষ্যে তরুণদের দেখে নিয়েছেন কোচ লুকাস স্কালোনি। ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দলের ফিরে আসায় শিষ্যদের দারুণ প্রশংসা তার কণ্ঠে। তার চোখে এই ফুটবলারদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন তিনি, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা আরও পরিণত হব। কিন্তু আজ এই দলটি একদম পরিণত দলের মতোই খেলেছে। প্রথমার্ধে ছেলেরা দু-তিনটি ভুল করেছিল। সেখানেই গোল হজম করি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দেখুন ওরা কীভাবে ফিরেছে। ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্ব না থাকলেও ছেলেরা ম্যাচটিকে অনেক গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ওরা ধৈর্য ধরে লড়াই করে গেছে, শেষ পর্যন্ত গোলের অপেক্ষা করেছে। আমি এই দলটাকে নিয়ে সত্যিই ইতিবাচক কিছু দেখছি। অবশ্যই ওরা এগিয়ে যাবে।’

জার্মান কোচ লো জানাচ্ছেন, স্রেফ অভিজ্ঞতার অভাবে ম্যাচটি জিততে পারেননি। তবে শুরুতে ভালো অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘আমরা চেয়েছিলাম ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট নিতে। পেরেছিলাম কিন্তু ৯০ মিনিট পর্যন্ত ধরে রাখতে পারিনি। এটা একমাত্র অভিজ্ঞতার কারণেই হয়েছে। দলে সেরা তারকারা এলে এমনটা হতো না।’

আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখলেও তাকে অতীতে নজর দিতে হবে। এর আগে তরুণ ফুটবলাররা দলে সুযোগ পেয়েছেন, অভিষেকে নেমে অনেকেই গোল করেছেন কিন্তু দলে স্থায়ী হতে পারেননি। ২০০৪-এর পর থেকে আর্জেন্টিনার ২৩তম ফুটবলার হিসেবে ওকাম্পোস অভিষেকে গোল করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন গনজালো হিগুয়েইন, ফ্রাঙ্কো জারা ও অ্যাঞ্জেল কোরেয়ার ক্যারিয়ার লম্বা হয়েছে। বাকি ফুটবলাররা হারিয়ে গেছেন সুযোগের অভাবে। বর্তমান কোচ স্কালোনিকে তাই নিশ্চিত করতে হবে জার্মানির বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করা অ্যালারিও ও অভিষেকে গোল করা ওকাম্পোসের মতো ফুটবলারদের সুযোগের অভাব যেন না হয়। ২০২২ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেসি ও স্কালোনি যেভাবে আর্জেন্টিনাকে সাজাতে চাইছেন তার অনেকটাই পূরণ হওয়ার পথে এই তরুণদের জন্য। সবটা পূর্ণ হবে প্রতিভার মূল্যায়ন ও সুযোগের মধ্য দিয়ে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত