মার্কিন প্রেসিডেন্টের এয়ারফোর্স ওয়ানের আদলে মোদির উড়োজাহাজ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ১১:১৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানের আদলে তৈরি করা হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির বাহন। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ছোট সংস্করণ উঠে আসবে। থাকছে মাঝ আকাশ থেকে দুনিয়ার যে কোনো প্রান্তে যোগাযোগের ব্যবস্থা।

আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, এটি রীতিমতো পাল্লা দেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এয়ারফোর্স ওয়ানের সঙ্গে। তবে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, দেশের অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে এই বিপুল খরচের প্রয়োজন ছিল কি?

ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য এক জোড়া বিশেষ বিমান আপাতত তৈরি হচ্ছে মার্কিন সংস্থা বোয়িংয়ের ডালাসের কারখানায়। তা দিল্লির হাতে আসার কথা ২০২০ সালের জুন-জুলাই নাগাদ।

ওই বোয়িং-৭৭৭ বিমানে থাকবে এসপিএস এবং এলএআইআরসিএম প্রযুক্তি। যা আকাশে আচমকা ক্ষেপণাস্ত্রের হানা থেকে সুরক্ষা দেবে। এই প্রযুক্তিতে রেডার জ্যাম হয়ে যাওয়ায় উড়োজাহাজটি খুঁজে পাবে না মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।

ভারতই প্রথম দেশ, যার কাছে এই প্রযুক্তি বিক্রি করতে রাজি হয়েছে আমেরিকা। কংগ্রেসকে দেওয়া প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রযুক্তি হস্তান্তরে চুক্তি হয়েছে ১৯ কোটি ডলারের। বিশেষ বিমান ছাড়াও এ সঙ্গে প্রতিরক্ষার অন্যান্য ক্ষেত্রও যুক্ত।

এত দিন বিদেশে দূরপাল্লার সফরে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বোয়িং-৭৪৭-৪০০ বিমানে পাড়ি দিতেন ভারতীয় তিন ভিভিআইপি। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলে এই বিমানের নামকরণও ছিল ‘এয়ার ইন্ডিয়া-ওয়ান’। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ওই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার। এখন শোনা যাচ্ছে, নতুন উড়োজাহাজে ককপিটে থাকবেন বিমানবাহিনীর বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত পাইলটেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে পাড়ি দিতে হলেও তেল ভরতে হয় না চট করে। দুনিয়ার যে কোনো শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মাঝ আকাশেই সেরে ফেলা যায় বৈঠক। তেল থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত মিলিয়ে প্রতি ঘণ্টায় এই বিমানের ওড়ার গড় খরচ ২ লাখ ডলার।

আমেরিকা এখন দু’টি বোয়িং-৭৪৭-২০০বি বিমানকে ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহার করে। ভারতের নতুন দুটি ভিভিআইপি বিমানের সুরক্ষাব্যবস্থা সেগুলোর মতোই হবে বলে সরকারি সূত্রের বক্তব্য।

তবে বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্যও তৈরি হচ্ছে দুটি নতুন বিমান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, বিমান দুটি তৈরিতে খরচ হতে পারে ৫২০ কোটি ডলার।

ভারতের নতুন দুটি ‘ভিভিআইপি’ বিমানের নির্মাণ ও ওড়ার খরচ কেমন তা এখনো জানা যায়নি। এয়ারফোর্স ওয়ানের খরচ দেখে অনেকের প্রশ্ন, ভারতের নতুন বিমানে ভিভিআইপি-সফরের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাবে না তো? বিশেষত যেখানে দেনার দায়ে ধুঁকতে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে কেন্দ্রের বকেয়ার অঙ্ক ১ হাজার ১৪৬ কোটি রুপি!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত