পুলিশের নির্দেশে ২ মিনিটেই সমাবেশ শেষ করল বিএনপি

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:৪৪ পিএম

বুয়েট ছাত্র আবরার ফরহাদ হত্যা ও ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে ডাকা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পুলিশের নির্দেশে দুই মিনিটেই শেষ করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। কর্মসূচি পালনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জড়ো হলেও পুলিশের নির্দেশে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

জানা যায়, সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সরকারের চুক্তিকে দেশের ‘স্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে তা বাতিল এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর এবং রবিবার দেশের সব জেলা সদরে জনসমাবেশ করার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে সমবেত হন। নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েও ছিলেন জনসমাবেশের লক্ষ্যে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয় নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল। পুলিশ বিএনপির নেতাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘দুই মিনিটের মধ্যেই তাদের সমাবেশ শেষ করতে হবে’। পরবর্তীতে পুলিশের কথামতো তারা কর্মসূচির সমাপ্তি করে যে যার মতো ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন দেশ রূপান্তরকে জানান, আমরা কাউকে বাধা দিইনি, আমরা বক্তব্য দিতে বলেছি, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি করতে বলেছি। কর্মসূচি থেকে তাদের কর্মীরাই চলে গেছে, যারা ছিল তারা বক্তব্য দিয়েছে কর্মসূচি করেছে।

জনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসূফ খান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা।

অ্যাডভোকেট আবুল কালাম তার দুই মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পরই সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এসেছিলাম এখানে দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য। কিন্তু আমাদের কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয়নি। তারপরও আমি এখানে অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি ভয় পাই না, জীবনে বহুবার কারাবরণ করেছি। কিন্তু যারা পদে আছেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন করবেন, তারা সরে গেছেন। আমি মনে করি, ভয় পেলে রাজনীতি করার দরকার নেই। এখন আর ভয়ের দিন নেই। আমাদের জনগণের পক্ষে কথা বলতে হবে’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত