অমর্ত্য সেনের পর আরও এক বাঙালি অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন। কলকাতার ছেলে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ বছর নোবেল জিতেছেন তার ফরাসি স্ত্রী এসথের ডুফলোও।
স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আরেক মার্কিন অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমার।
সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটার পর ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেলের জন্য এই তিন গবেষকের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি।
অভিজিৎ ও তার স্ত্রী এসথের দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক। ১৯৬১ সালে মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণকারী অভিজিতের শৈশব কাটে কলকাতাতেই, প্রাথমিক পড়াশোনা সারেন সেখানকার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে।

এরপর ১৯৮১ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন অভিজিৎ। সেই বছরই স্নাতকোত্তর পড়তে চলে যান নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে।
পরবর্তীতে আরও উচ্চতর গবেষণার জন্য অভিজিৎ পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্ত হন বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। সেখানে তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইনফরমেশন ইকোনমিকস।’ ১৯৮৮ সালে হার্ভার্ড থেকে তিনি পিএইচডি অর্জন করেন।
বর্তমানে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক অধ্যাপক হিসেবে এমআইটি-তে কর্মরত আছেন অভিজিৎ বিনায়ক। বিশ্বের দারিদ্র্য নিয়ে গবেষণার জন্য ২০১৩ সালে তিনি এবং এসথের ডুফলো মিলে ‘আবদুল লতিফ জামিল পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাব’ গড়ে তোলেন। সেখানে তাদের পরীক্ষামূলক গবেষণাকেই সম্মান জানিয়েছে নোবেল কমিটি।
২০১৫ সালে সহকর্মী এসথেরকে বিয়ে করেন অভিজিৎ। এর আগে এমআইটির আরেক বাঙালি গবেষক অরুন্ধতি তুলি ব্যানার্জির সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। অরুন্ধতিও অভিজিতের সঙ্গে পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাবে কাজ করেন।

অভিজিৎ জাতিসংঘেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ পরবর্তী ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডা কর্মসূচিতে জাতিসংঘের মহাসচিবের উচ্চপর্যায়ের প্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
এই বাঙালি অর্থনীতিবিদ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের (এনবিআর) অর্থনীতি গবেষণা বিভাগের প্রথম প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।
অর্থনীতি বিষয়ে বিনায়কের লেখা চারটি বই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার মধ্যে ‘পুওর ইকোনোমি’ বইটি গোল্ডম্যান সাচস বিজনেস বুক সম্মানে ভূষিত হয়।
তার বাবা-মা দুজনেই অর্থনীতির অধ্যাপক। বাবা দীপক ব্যানার্জি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান এবং মা নির্মলা ব্যানারজি কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সের অর্থনীতির অধ্যাপক।
