একেই বলে কপালের লিখন, না যায় খণ্ডন! হয়তো অবাঞ্ছিত ভেবে কন্যাশিশুকে কবর দিয়ে গেলেন এক বাবা। শোকে পাথর আরেক বাবা তার সদ্যোজাত মৃত মেয়ের দাফনে কবর খুঁড়তেই তাকে পেলেন। মেয়েদের জান কই মাছের প্রাণ প্রবাদ সত্য প্রমাণে শিশুটিও দিব্যি বেঁচে আছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের বরিলিতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি। কন্যাশিশুটিকে একটি মাটির পাত্রে ভরে গর্তের ৩ ফুট নিচে রেখে চাপা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে বরিলির ব্যবসায়ী রিতেশ কুমার সিরোহির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বৈশালীর প্রসববেদনা ওঠে। স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে, সেখানে তিনি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। জন্মের কয়েক মিনিটের মধ্যেই নবজাতকের মৃত্যু হয়। বৈশালীও বরিলি পুলিশের এসআই হিসেবে কর্মরত।
এরপর রিতেশ নিজের মেয়েকে দাফনে একটি গাছের নিচে কবর খুঁড়তে থাকেন। সেখানেই মাটির পাত্রে শিশুটিকে জীবিত পান। ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, গত বুধবার স্ত্রী বৈশালীকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরের দিন সাত মাসের একটি প্রি-ম্যাচিওর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। জন্মের কয়েক মিনিট পরই তার মৃত্যু হয়। নিজের সন্তান কবর দিতে গিয়ে এ অত্যাশ্চর্য ঘটনা ঘটে।
রিতেশ আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে মাটির পাত্রে শোয়ানো সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের দেহ। এটি দেখে বুকের ধুকপুক বেড়ে যায়। সাহস করে দুধ জোগাড় করে তুলা দিয়ে তার মুখে দিই। সাড়া পেয়ে চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
স্থানীয় পুলিশ প্রধান অভিনন্দন সিং বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত ও শিশুটির মা-বাবার সন্ধান করা হচ্ছে। আমাদের ধারণা, মা-বাবার ইচ্ছাতেই তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছে।’
বরিলির প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা বিনোত শুক্লা জানান, উন্নত চিকিৎসা সুবিধার ইউনিটে নেওয়ার পর বাচ্চাটির অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে। বিথারি চেইনপুরের এমএলএ রাজেশ মিশ্র তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন।
বিশ্বের মধ্যে ভারতে লিঙ্গবৈষম্য খুবই প্রকট। দেশটিতে মেয়েরা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। সামাজিকভাবে, বিশেষ করে গরিবরা মেয়েসন্তানকে অর্থনৈতিক বোঝা মনে করে থাকে। এ ছাড়া অবাধ যৌনাচারের ফলে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অবৈধ গর্ভপাতের হারও বেড়েছে।
