অনেকেই হয়তো বলবেন ভাইরাল ভিডিও’র ক্ষেত্র ২০১০ এর দশকই প্রথম নয়। এর শুরু সম্ভবত ২০০৫ সালে। কারণ ওই বছর চালু হয় ইউটিউব, পরের বছর আছে টুইটার। কিন্তু প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও অন্যান্য বিষয় মিলিয়ে ২০১০ সাল থেকে বিবেচনা করা যায়।
সঙ্গে সঙ্গে এমন প্রশ্নও উঠে- কেন মিষ্টি একটা বাচ্চার ভিডিও লাখো লাখো মানুষ দেখে বা অদ্ভুত নাচ মানুষকে আকৃষ্ট করছে!
এই নিয়ে সমাজতাত্ত্বিক, দার্শনিক, সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ এমনকি বিজ্ঞানীদের ভাবনার খোরাক রয়েছে। ভাবনার দায়িত্বটুকু তাদের হাতে থাকুক। আসুন একে একে দেখে নিই ভাইরাল ১৭টি ভিডিও।
দুটি রংধনু (২০১০)
ক্যালিফোর্নিয়ার জাতীয় উদ্যান থেকে তোলা পল বিয়ার ভাসকুয়েসের ভিডিওটি ভাইরাল হয় ২০১০ সালে জানুয়ারি। সেখানে দুটি রংধনু দেখা যায়। আজকের হাইটেক যুগে এটি নস্টালজিয়া ছাড়া আর কিছুই নয় হয়তো বা!
বিছানায় হঠাৎ আক্রমণ (২০১০)
জানালা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার বাসিন্দা কেলি ডডসনকে আক্রমণ করে এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে ভাইরাল করেন ওই নারীর ভাই অ্যান্টনি।
নায়ান ক্যাট (২০১১)
এটি একটি অ্যানিমেটেড বিড়াল। ভিডিওতে তাকে দৌড়াতে দেখা যায়। এমন বিড়াল ভিডিও গেমে অনেকে দেখেছেন। তারপরও তাকে দেখতে চেয়েছে মানুষ।
ফ্রাইডে (২০১১)
শুক্রবার নিয়ে সবচেয়ে বাজে গানটি হয়তো রেবেকা ব্ল্যাকের! কথাগুলো সাদামাটা। যেমন; টুমরো ইজ স্যাটারডে অ্যান্ড সানডে কামস আফটার! জন্মদিনে পাওয়া ৪ হাজার ডলার খরচ করে বানানো ভিডিওটি লোকজন কেন দেখেছে তাও এক রহস্য।
কোনি ২০১২ (২০১২)
কোনি ২০১২ একটি গুরুতর রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়। যা দর্শকদের উগান্ডার মিলিশিয়া নেতা জোসেফ কোনির বিরুদ্ধে লড়তে বলে।
গ্যাংনাম স্টাইল (২০১২)
ওই বছরের জুলাইয়ে মুক্তি পাওয়া ভিডিওটি পাঁচ মাসের মধ্যে শত কোটি দর্শক দেখে। যা ইউটিউবে ইতিহাসে প্রথম। দক্ষিণ কোরিয়ার গায়ক সাই ওই ভিডিওতে অদৃশ্য ঘোড়ায় চড়ার ভঙ্গিতে নাচতে থাকেন। যা খুবই জনপ্রিয়তা পায়।
কল মি মেবি’র অনুকরণ (২০১২)
কার্লি রি জেপসনের ২০১২ সালের হিট গান ‘কল মি মেবি’। এর অনুকরণে কয়েক ডজন ভিডিও প্রকাশ হয়। হার্ভার্ড বাস্কেটবল টিম থেকে জিমি ফ্যালকন অনেককেই দেখা যায় ওইসব ভিডিওতে। কেউ গানটি নতুন করে গেয়েছে, কেউ বা লিপসিঙ্ক করেছেন।
শিয়াল কী বলছে (২০১৩)
এই ভিডিওকে ‘গ্যাংনাম স্টাইল’-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়। নরওয়ের কমেডি তারকারা অদ্ভুত মেকআপ নিয়ে শিয়ালের মতো শব্দ করে। তবে অনেকে বলে থাকেন- পুরো ভিডিও দেখার পরও বুঝতে পারেননি শিয়ালেরা কী বলছে।
হারলেম শেইক (২০১৩)
ডিজে ব্যুয়ারের হিট গান এটি। কিন্তু ‘কল মি মেবি’র মতো অনুকরণ করেন অনেকে। এমনকি পানির নিচেও ভিডিও ধারণ রয়েছে।
আইস বাকেট চ্যালেঞ্জ (২০১৪)
মনে হতে পারে মজার করার জন্য সবাই নিজের মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালছে- আসলে তা নয়। জটিল এএলএস রোগ নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়েছেন তারা। বিল গেটস, জর্জ ডব্লিউ বুশ থেকে অপেরাহ উইনফ্রেসহ অনেকেই ভিডিও প্রকাশ করেন।
টিনি হ্যামস্টার্ড ইটিং টিনি বুরিটোস (২০১৪)
ভিডিওটি দেখুন। বলবেন, ওয়াও!
পিৎজা র্যাট (২০১৫)
নিউইয়র্কের সাবওয়ে স্টেশনে নিজ গুহায় পিৎজা নিয়ে যাচ্ছে একটি ইঁদুর। একে অনেকে শহুরে জীবনসংগ্রামের রূপক হিসেবে তুলে ধরেন।
পেন-পাইন অ্যাপল-অ্যাপল-পেন (২০১৬)
জাপানি কমেডিয়ান কাজুহিতো কসোকার মজার একটি ভিডিও। গান-নাচ মিলিয়ে। দেখে আপনিও গেয়ে উঠবেন ‘পেন পাইন অ্যাপল অ্যাপল পেন’!
পানির বোতল ছুড়ে দেখুন (২০১৬)
পানি বোতল নিয়ে ভিডিওটি নর্থ ক্যারোলিনার একটি স্কুল ট্যালেন্ট শোতে ধারণ করা। বোতল ছোড়ার কাজটি সহজ মনে হলেও সহজ নয়। তাই হয়তো দর্শক বারবার দেখেছে।
বিবিসি ড্যাড (২০১৭)
স্কাইপে’র মাধ্যমে বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দেওয়া চেষ্টা করছিলেন প্রফেসর রবার্ট কেলি। এই সময় ফ্রেমে ঢুকে পড়ে তার চার বছরের মেয়ে, আট মাসের ছেলে ও স্ত্রী। যা বিব্রতকর অবস্থা তৈরি করে।
ইয়ান্নি/লরেল (২০১৮)
ভিডিওটি কেন ভাইরাল হয়েছে- সেটা রহস্য বটে। দেখে আপনিও ভাবুন।
বাপ-বেটার কথোপকথন (২০১৯)
টিভি শো ‘আম্পায়ার’-এর সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন কমেডিয়ান ডি জে প্রাওর ও তার ১৯ মাস বয়সী ছেলে কিংসটন। দেখার বিষয় বটে।
