উত্তর সিরিয়া সীমান্তে তুরস্ক ঘোষিত ‘সেফ জোন’ থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের প্রত্যাহার শর্তে অভিযান বন্ধে সম্মত হলো আঙ্কারা।
বিবিসি জানায়, আঙ্কারায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গে এক বৈঠকের মধ্য দিয়ে অভিযান বন্ধের এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান।
বৈঠক শেষে মাইক পেন্স জানান, পাঁচ দিনের জন্য সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখা হবে এবং সীমান্তে ‘সেফ জোন’ থেকে কুর্দি বাহিনীকে প্রত্যাহারের সব ধরনের সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই চুক্তির সঙ্গে কুর্দিদের পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজে) বাহিনী সম্মত কীনা সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
কুর্দিদের মূল বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর কমান্ডার মজলুম কোবানি জানান, রাস আল-আইন এবং তাল আবিয়াদ সীমান্ত শহরে এই চুক্তি কীভাবে কার্যকর হচ্ছে সেটা পর্যবেক্ষণ করবে কুর্দি বাহিনী, যেখানে সবচেয়ে বেশি লড়াই চলছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য কোনো এলাকা নিয়ে আলোচনা করিনি।’
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) নামে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা জানায়, চুক্তি ঘোষণার পরও রাস আল আইনে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই অব্যাহত আছে।
সংস্থাটি জানায়, তুরস্কের গত আট দিনের অভিযানে সিরিয়ার ভেতরে ৭২ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে এবং তিন লাখেরও বেশি মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
সিরিয়ায় আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে কাজ করে ওয়াইপিজে। সেসময় বিপুলসংখ্যক আইএস যোদ্ধাদের আটক করে তারা।
কিন্তু তুরস্কের অভিযানে কুর্দিদের পাশ থেকে সরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ঘরে-বাইরে সমালোচিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পরবর্তীতে তুর্কি বাহিনী-কুর্দিদের এ লড়াই তীব্র আকার ধারণ করায় এবং বেসামরিক লোকের নিহত সংখ্যা বাড়তে থাকায় তুরস্কের এই অভিযান বন্ধে আলোচনার উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
