নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ অফিসের সাইনবোর্ড

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:২৬ পিএম

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় আদালত কর্তৃক চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির পরও জোরপূর্বক জমি দখল করে আওয়ামী লীগ অফিসের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এই সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক মো. রশিদুল হক।

জমি দখলের বিষয়ে বিরল থানা-পুলিশের কাছে ধর্মপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবুল চন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদের নামে বাদী হয়ে লিখত অভিযোগ দায়ের করেছেন জমির মালিক।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রশিদুল ইসলাম কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকায় ২৬ বছর আগে কেনা জমিতে স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করেন। কিন্তু প্রায় ৪ বছর ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেই স্থাপনা তৈরিতে বাঁধা প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে আসছেন।

সর্বশেষ চলতি মাসের ৬ অক্টোবর স্থায়ী স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন মিলে রশিদুলের কাজে বাঁধা প্রদান করে তাদেরকে মারপিট করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে সেই জমিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী রশিদুল হক জানান, গত ২৫ বছর আগে কালিয়াগঞ্জ গোপীনাথপুর মৌজার জহির উদ্দিনের কাছ থেকে গোপীনাথপুর মৌজার ৩০৫ দাগের রাস্তার সাথে (হালদাগ-৩৭২) ১২ শতাংশ জমি কিনে নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমি সেই জমি ভোগ দখল করে আসছি। একই দাগে (৩০৫) ২০১৫ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় করতে ইউনিয়ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১ শতাংশ জমি কিনে নেন বলে মৌখিকভাবে জানান রশিদুল হক।

সেই মোতাবেক গত ২৭ জুলাই (২০১৮) তারিখে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জমি দখল করতে যায়। তারা ৩০৫ দাগের অবশিষ্ট জমি দখল না করে রাস্তার পাশে রশিদুল হকের ৩৭২ দাগের জমি দখল করার চেষ্টা করে।

এই ঘটনায় জমির মালিক বাদী হয়ে বিরল থানায় ওই দিনই অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তার অভিযোগ থানায় গৃহীত হয়নি বলেও জানান তিনি। পরদিন জমির মালিক রশিদুল হক দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৯ আগস্ট আদালত সেই জমির ওপর উভয় পক্ষের মধ্যে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর জোরপূর্বক জমিতে আওয়ামী লীগের অফিসের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়।

সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেললে রশিদুলকে গুম করে ফেলাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করতে থাকেন বলেও লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন জমির মালিক রশিদুল হক।

এ ব্যাপারে বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম গোলাম রসুল বলেন, জমি দখল করে আওয়ামী লীগ অফিসের কার্যালয় করা হবে মর্মে সাইনবোর্ড দিয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এমন একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। ইতিমধ্যে সেই অভিযোগটি তদন্ত কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র রায় মোবাইলে বলেন, কালিয়াগঞ্জ বাজারে আওয়ামী লীগের অফিস করার জন্য জমির মূল মালিকের কাছে আমরা ১ শতাংশ জমি কিনে নিয়েছি। আদালত সেই জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু রশিদুল হক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা তৈরি করার জন্য মালামাল ফেলেছেন। এ জন্য আমরাও সেখানে একটি অফিসের সাইনবোর্ড লাগিয়েছি।

একই কথা বলেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, আমরা ১শতাংশ জমি কিনেছি। বর্তমানে রশিদুলের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলার কারণে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিরল উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাংবাদিকরা মনে হয় রশিদুলের দায়িত্ব নিয়েছে! তাহলে আপনারাই এসে রশিদুলের সমাধান করে দিয়ে যান। আমি এ বিষয়ে মোবাইলে কোন কথা বলব না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত