আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাইনবোর্ড

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০১:১১ এএম

আদালত কর্র্তৃক চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির পরও বিরলে জোরপূর্বক আওয়ামী লীগ অফিসের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা এই সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জমির অপর মালিক।

জমি দখলের বিষয়ে বিরল থানায় ধর্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবুল চন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন রশিদুল হক।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রশিদুল ইসলাম কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকায় ২৬ বছর আগে কেনা জমিতে স্থাপনা তৈরি করতে চাইলে প্রায় ৪ বছর ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাতে বাধা প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে আসছেন।

সর্বশেষ চলতি মাসের ৬ অক্টোবর স্থায়ী স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারাসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন মিলে রশিদুলের কাজে বাধা প্রদান করে তাদের মারপিট করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে সেই জমিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী রশিদুল হক বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে কালিয়াগঞ্জ গোপিনাথপুর মৌজার জহির উদ্দিনের কাছ থেকে গোপিনাথপুর মৌজার ৩০৫ দাগের রাস্তার সঙ্গে (হালদাগ-৩৭২) ১২ শতাংশ জমি কিনে নিই। দীর্ঘদিন ধরে সেই জমি ভোগদখল করে আসছি। একই দাগে (৩০৫) ২০১৫ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় করতে ইউনিয়ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১ শতাংশ জমি কিনে নেন। সেই মোতাবেক গত ২৭ জুলাই তারিখে আওয়ামী লীগের নেতারা জমি দখল করতে যায়। তারা ৩০৫ দাগের অবশিষ্ট জমি দখল না করে রাস্তার পাশে রশিদুল হকের জমি দখল করার চেষ্টা করে।

এই ঘটনায় বিরল থানায় ঐদিনই অভিযোগ করতে গেলে তার অভিযোগ থানায় গৃহীত হয়নি বলেও জানান তিনি। পরের দিন জমির মালিক রশিদুল হক দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলা করেন।

পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ১৯ আগস্ট আদালত সেই জমির ওপর উভয় পক্ষের মধ্যে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর জোরপূর্বক জমিতে আওয়ামী লীগের অফিসের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়।

সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেললে রশিদুলকে গুম করে ফেলাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করতে থাকে বলেও লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন জমির মালিক রশিদুল হক।

বিরল থানার ওসি এ টি এম গোলাম রসুল বলেন, ‘জমি দখল করে আওয়ামী লীগ অফিসের কার্যালয় -এমন একটি অভিযোগ এসেছে। ইতিমধ্যে সেই অভিযোগটি তদন্ত কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হয়েছে।’

ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘কালিয়াগঞ্জ বাজারে আওয়ামী লীগের অফিস করার জন্য জমির মূল মালিকের কাছ থেকে আমরা ১ শতাংশ জমি কিনে নিয়েছি। আদালত সেই জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু রশিদুল হক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা তৈরি করার জন্য মালামাল ফেলেছেন। এজন্য আমরাও সেখানে একটি অফিসের সাইনবোর্ড লাগিয়েছি।’

তবে, বিরল উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাংবাদিকরা মনে হয় রশিদুলের দায়িত্ব নিয়েছে! তাহলে আপনারাই এসে রশিদুলের সমাধান করে দিয়ে যান। আমি এ বিষয়ে মোবাইলে কোনো কথা বলব না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত