‘আমি ও আমার দপ্তর দুর্নীতিমুক্ত’ পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ওপর বড় বড় অক্ষরে এ লেখা অনেকেরই দৃষ্টি কাড়ে। আর সেই কার্যালয়ের প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর কাছে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থী সিভিল সার্জন বরাবর ১৪ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দেন।
তবে প্রধান সহকারী কোকিলেশ্বর বর্ম্মা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও সিভিল সার্জন জানিয়েছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের নাওতারী নবাবগঞ্জ এলাকার শাহরিয়ার কবির নামের ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, শাহরিয়ার সম্পªতি রংপুর সিটি ম্যাটস (মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) থেকে তিন বছরমেয়াদি মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং কোর্স সম্পন্ন করেন। পরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল থেকে নয় মাসের ইন্টার্নি করেন। নিয়ম অনুযায়ী তাকে নিজ জেলার সরকারি হাসপাতাল থেকে আরও তিন মাসের ইন্টার্নি কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
এ জন্য ১৪ অক্টোবর তিনি একটি আবেদনপত্র নিয়ে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যান। কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কোকিলেশ্বর বর্ম্মা আবেদনপত্র দেখে পাঁচ হাজার টাকা দিলে একটা ব্যবস্থা করা যাবে বলে ওই শিক্ষার্থীকে জানান। কিন্তু দরিদ্র ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে হঠাৎ করে টাকা জোগাড় করা কষ্টসাধ্য। পরে শাহরিয়ার প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
শাহরিয়ার বলেন, ‘আমি নিজ জেলায় তিন মাসের ইন্টার্নি করার জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যাই। সেখানে প্রধান সহকারী কোকিলেশ্বর বর্ম্মা আমাকে বলেন, “অনেক খরচ আছে, পাঁচ হাজার টাকা দিলে কাজ হবে।” পরে আমি এক আইনজীবীর পরামর্শে সিভিল সার্জন বরাবরে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে কোকিলেশ^র বর্ম্মা বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী আমার কাছে এসেছিল। তবে টাকাপয়সার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমি বলেছি সিভিল সার্জন স্যার আসুক তাকে বলে একটা ব্যবস্থা করা যাবে। কেন তিনি এমন অভিযোগ করছেন জানি না।’
সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন বলেন, ‘আমি ও আমার দপ্তর প্রকৃত অর্থেই দুর্নীতিমুক্ত। ওই শিক্ষার্থীর আবেদন নিয়ে আমার কাছে আসার কথা। এটা তার (প্রধান সহকারী) কাজ না। সেখানে গিয়ে কী হয়েছে আমি জানি না। তবে যেহেতু একটা অভিযোগ উঠেছে, এ জন্য প্রধান সহকারীকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছি। যাতে তিনি দাপ্তরিক কাজের বাইরে অন্য কাজে না জড়ান। এ ছাড়া বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তিনি আমার কাছে বদলির জন্য আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন। বদলির আবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’
