নারীদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সৌদি আরব। এতে করে ২১ বছরের বেশি যেকোনো নারী তাদের বাবা, স্বামী ও পুরুষ স্বজনের মতো অভিভাবক ছাড়া পাসপোর্ট ও ভ্রমণ করতে পারবেন। কার্যত সৌদির শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এ সংস্কারকে বিশ্বে সাধুবাদ জানানো হয়। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা উঠলেও আইনি বড় ফাঁক রয়ে গেছে, যা ব্যবহার করে অভিভাবকরা নারীদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
সৌদি আরবে ‘তাগায়ুব’ (অন্তরীণ/অনুপস্থিত)-এর মতো আইনি বিধান দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর রয়েছে। আরবি এ বিধানে পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বাড়ি থেকে কোনো নারী বের হলে, তাকে ধরে এনে অন্তরীণ করে রাখা হয়।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন্সের ফেলো ইমাম আলী হুসেইন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘অভিভাবকরা থানায় অভিযোগ দিচ্ছেন, তাদের নারী স্বজন বাড়িতে অনুপস্থিত। এরপর পুলিশ তাদের উদ্ধার অথবা আটক করলে, নারী শেল্টারকেন্দ্র দার আল-রিয়ায় রাখা হয়।’
মূলত এ শেল্টারপদ্ধতি এবং সেখানকার অবস্থা দেশটির নারী স্বাধীনতার জন্য সংস্কার পদক্ষেপ সম্পর্কে ভয়াবহ চিত্র দিচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শেল্টারে অন্তরীণ নারীদের সঙ্গে কয়েদির আচরণ করা হয়। কারও প্রবেশাধিকার না থাকায় দেশটির শেল্টারে কত নারী বন্দি আছেন, তা অস্পষ্ট। তারা তাগায়ুব বন্ধে আইন এবং প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর বিরুদ্ধে ‘অবাধ্যতার’ অভিযোগ থানায় দিলে অভিভাবকদের কারাগারে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিভাবক আইনের বড় এ ত্রুটি দেখিয়ে পাশ্চাত্যের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌদিরা (অভিভাবকরা) নারীদের পাসপোর্ট পাওয়া থামাতে পারবে না। কিন্তু স্থানীয় থানায় অনুপস্থিত দেখিয়ে ঠিকই তাদের শেল্টারে ভরতে পারবে।’
এ বিষয়ে সৌদি কর্র্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে গত বছর বিচার মন্ত্রণালয়ের শুরা কাউন্সিলররা অভিভাবকদের করা তাগায়ুব মামলা না নিতে পুলিশকে পরামর্শ দেন, যাতে আস্তেআস্তে এ পদ্ধতি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে এ পরামর্শ এখনো উপেক্ষিত। অবশ্য নিষেধাজ্ঞা তোলার পর অনেক নারী পাসপোর্ট করার আবেদন করেছেন। ৪০ বছর বয়সী এক নারী বলেন, ‘জীবনে প্রথম পাসপোর্ট পেলাম। এখন থেকে নারীরা আত্মবিশ্বাস পাবে, ভেবে ভালো লাগছে।’
সৌদি আরবে বিয়ে এবং শেল্টার থেকে মুক্তির সময় এখনো পুরুষ অভিভাবকের অনুমোদন লাগে। এই ফাঁকফোকরে অনেক নারীকে শান্তিস্বরূপ শেল্টারে দীর্ঘদিন কাটাতে হয়, যেটিকে ইমাম আলী হুসেইনের ভাষ্যে, ‘পাসপোর্ট সৌদি নারীদের মুক্তি দিলেও, এখনো তারা অভিভাবকদের হাতে বন্দি।’
