ফেনীর সোনাগাজীতে এক দল হিংস্র মানুষের সঙ্গে নুসরাতের লড়াই শেষ হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে এসে।
পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত ১০ এপ্রিল হার মানে ফেনীর সোনাগাজীর অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)।
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে ৬ এপ্রিল সকালে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরেই তিন তলা ভবনের ছাদে নিয়ে শরীরে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা।
চারজন বোরকা পরে এ হত্যাচেষ্টায় অংশ নেয় বলে নুসরাত জানায়।
এর আগে ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় থানায় মামলা করলে গ্রেপ্তার হয় অধ্যক্ষ।
নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ, অধ্যক্ষের পক্ষের লোকই পরিকল্পিতভাবে নুসরাতকে হত্যা করতে চেয়েছিল।
অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে সেদিনই ভর্তি করায় হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
তার শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই গভীরভাবে দগ্ধ হয় বলে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে পানি দিতে নিষেধ করেছিলেন।
নুসরাত পানি খাওয়ার করুণ আকুতি জানায়। তখন তিনি ঠাণ্ডা পানি খেতে চান। তার পানি চাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ হয়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে আবেগে আপ্লুত করে।
নুসরাতকে হত্যার রায়ে বৃহস্পতিবার ১৬ আসামির ফাঁসির রায় দেয় আদালত।
